‘মৃত্যুদণ্ড চাই!’-মেয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠতেই মর্মান্তিক দাবি বাবার

পুনের তরুণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল (২৫) হত্যা মামলার মোড় ঘুরছে প্রতিদিন। লোহাগড় দুর্গের খাদ থেকে কেতনের নিথর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল ও কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী। এবার এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মুখ খুললেন প্রধান অভিযুক্ত সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল। মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি যে কোনো কঠোর শাস্তির পক্ষে, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

“মেয়ের কঠোরতম শাস্তি চাই”: প্রবীণ গোয়েল এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রবীণ গোয়েল বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার মেয়ে এমন কাজ করতে পারে। কিন্তু যদি আদালতে সিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তার কঠোরতম শাস্তিই হওয়া উচিত।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রবীণ গোয়েল আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “প্রয়োজনে সিয়াকে সেই একই দুর্গে নিয়ে গিয়ে সেই একই জায়গা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হোক। আইন তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আমার কোনো আপত্তি নেই।”

বিপরীত মেরুতে সিয়ার মা অন্যদিকে সিয়ার মা পূজা গোয়েল মেয়ের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কেতন ও সিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। প্রাক-বিবাহ ভ্রমণের জন্য তাঁদের পরিবার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছিল। পূজার প্রশ্ন, “যদি সিয়ার বিয়েতে অমত থাকত, তবে বিয়ের এত প্রস্তুতি কেন নিত?”

তদন্তে যা উঠে আসছে পুলিশের হাতে পুলিশের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, রীতিমতো ছক কষে করা খুন। তদন্তকারীদের অভিযোগ:

  • সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চাননি, কিন্তু সামাজিক চাপে বাগদান ভাঙতে পারছিলেন না।

  • প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সিয়া।

  • ঘটনার আগেই একবার কেতনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

  • কফি শপে বসে ইউটিউব দেখে খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন অভিযুক্তরা।

তথ্য গোপনের অভিযোগ কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়ালের দাবি, সিয়ার পরিবার অনেক তথ্য গোপন করেছে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রবীণ গোয়েল। তাঁর দাবি, মেয়ের অন্য কোনো সম্পর্কের কথা বা বিয়েতে আপত্তির বিষয়টি তাঁদের একেবারেই অজানা ছিল।

বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, মোবাইল রেকর্ড এবং ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তাও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। লোহাগড় দুর্গের সেই খাদে কেতনের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনে এখন পুনে পুলিশের নজর রয়েছে মামলার চার্জশিটের ওপর।