“তৃণমূলের পাপের ফল এই মৃত্যুপুরী”, তারাতলা বিপর্যয়ে মমতা-ফিরহাদকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর!

তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ। নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্তমানে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায়ভার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটল কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-র দলত্যাগের মাধ্যমে।

দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনার রেশ কাটেনি। বিশ্বরূপ দে বলেন, “মনটা আজ ভারাক্রান্ত। যে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছি, সেই দলের গাফিলতিতেই আজ এতগুলো নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন মহানাগরিকের স্বাক্ষর করা নকশাটিই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এই দায় এড়ানো যায় না। আমি আর তৃণমূল করতে পারব না।” তাঁর এই পদত্যাগ শাসকদলের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “এটি আপনাদের পাপের ফল। প্রতিটি ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে এই তিলোত্তমাকে আপনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। গার্ডেনরিচ থেকে শিক্ষা নেননি, সংশোধনও করেননি। গার্ডেনরিচের ধ্বংসস্তূপে মুর্শিদাবাদের যে ১৪ জন মারা গিয়েছিলেন, তাদের বাঁচানোর ন্যূনতম চেষ্টাও আপনারা করেননি। এবারও কাউকে ছাড়া হবে না। প্রাক্তন মেয়রের সরাসরি মদত আছে এই ঘটনার পেছনে।”

অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিম বিষয়টিকে দেখছেন ‘সুপারভিশনের গাফিলতি’ হিসেবে। তিনি দাবি করেছেন, “গোডাউনটি বেআইনি ছিল না। প্ল্যান স্যাংশন হয়েছিল এবং ফিজও জমা দেওয়া হয়েছিল। নির্মাণ চলাকালীন তদারকিতে কোথাও বড় গাফিলতি থেকে থাকতে পারে।” ফিরহাদ হাকিমের এই সাফাই মানতে নারাজ বিরোধীপক্ষ এবং খোদ দলের অন্দরের একাংশ।

এই অস্বস্তিকর আবহের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র কয়েকজনকে ধরে এফআইআর (FIR) করলেই হবে না। যদি প্রাক্তন মেয়রের কোনো দায় থাকে, তবে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হোক। নেপথ্যে থাকা বড় নামগুলোকে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আড়াল করা চলবে না।”

তারাতলাকাণ্ড কেবল একটি নির্মাণ বিপর্যয় নয়, বরং এটি প্রশাসনিক অবহেলা ও দুর্নীতির এক নগ্ন চিত্র—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মৃতদের পরিবারের চোখের জল এবং একের পর এক নেতার মন্তব্য এখন রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে কলকাতার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে।