মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিই সার! তারাতলা কাণ্ডে ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণকে আটক করল সিট

তারাতলা গোডাউন ধসের মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্তে বড় মোড়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভায় করা মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) তথা শীর্ষ আধিকারিক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার ও তৎপরতা বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা কাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কলকাতা পুরসভার অন্দরের দুর্নীতির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, “কী ভেবেছেন, পুরসভার সব কর্মকাণ্ড আমরা জানি না? কালীচরণকে (কালী) তুললেই সব বেরিয়ে আসবে। কালীকে না জানিয়ে পুরসভায় কোনো বিল্ডিং প্ল্যান পাস হয় না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সিট-এর তৎপরতায় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়।
কে এই কালীচরণ? ফিরহাদ হাকিম যখন মেয়র ছিলেন, সেই সময়েই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ওএসডি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থেকে শুরু করে বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানোর মতো প্রক্রিয়ায় তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি দাবি করেন, কালীচরণ বাইপাসের ধারে ২০০ কোটি টাকা খরচ করে তৃণমূল ভবন তৈরির কাজেও যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে বড় মোড় তারাতলা গোডাউনের নকশা অনুমোদনে যে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, পুরসভার উচ্চপদস্থ কর্তাদের মদত ছাড়া এত বড় অবৈধ নির্মাণ সম্ভব ছিল না। এখন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তকারী দল প্রাক্তন মেয়রের ভূমিকা এবং এই সংক্রান্ত আরও গোপন তথ্য জানতে পারবে বলে আশা করছে।
এই আটকের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওপর চাপ আরও বাড়ল। একদিকে যখন দলের অন্দরে তাঁকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে, তখন প্রশাসনিক তদন্তের জালে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন ওএসডি-র আটক হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে।