মুখ্যমন্ত্রীর সবং সফরে চরম জলকষ্ট! বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের ঠিক আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু যুবকের

বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায় পুরোপুরি নিমজ্জিত রয়েছে। এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে এবং দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য তুলে দিতে আজ বৃহস্পতিবার সবংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে কপ্টারে চড়ে এবং প্রয়োজনে সড়কপথে তিনি সবংয়ে পৌঁছে বিডিও অফিসে উচ্চপর্যায় প্রশাসনিক বৈঠক সারবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। মুখ্যমন্ত্রী আসার এই বিশেষ দিনেই সবংয়ের দুবরাজপুর এলাকায় ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্থানীয় একটি মৎস্য ভেড়িতে ট্রান্সফর্মারে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কার্তিক হাজরা নামক এক ২৮ বছর বয়সি যুবকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার ১৬ অগস্ট বন্যার কবলে পড়ে এই অঞ্চলেই এক শিশু ও এক বৃদ্ধের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যা ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছিল। এর মধ্যেই নতুন করে এই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের ক্ষোভ এবং অভিযোগের তির মূলত প্রশাসনের অব্যবস্থার দিকে। তাঁদের দাবি, যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা এবং মাছের ভেড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে কৃত্রিম বাঁধ বা রাস্তা নির্মাণের ফলে স্বাভাবিক জল নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ এই তীব্র জলমগ্নতা এবং প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে আসার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও ত্রাণের বন্দোবস্ত জোরেশোরে সেরে ফেলছে, ঠিক তখনই এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন যে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন যে প্রশাসন সর্বতোভাবে সবংবাসীর পাশে রয়েছে। সবমিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঠিক প্রাক্কালে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক দুর্ঘটনা গোটা প্রশাসনিক মহলে বড়সড় নাড়া দিয়েছে।