‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরই বড় চাল? পাকি সেনাকে ঢেলে সাজাতে হঠাৎ করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে কোন মারণাস্ত্র নামল?

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতের সামরিক শক্তি দেখে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া পাকিস্তান কি ফের বড় কোনো ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছে? সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে চীন এবং তুরস্কের ভারী সামরিক পরিবহন বিমানের টানা ৬০ ঘণ্টার অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক আনাগোনা ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির নুর খান এয়ারবেস এবং করাচির মাসরুর এয়ারবেসে একাধিক চীনা সামরিক বিমান ও তুরস্কের বিশেষ সামরিক বিমান TUAF526 অবতরণ করতে দেখা গেছে। সূত্রের খবর, এই বিপুল লজিস্টিক অপারেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক ড্রোন, কামিকাজে সিস্টেম এবং মারাত্মক সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের সামরকি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখন আর একা লড়াই করছে না; তাদের পেছনে শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে চীন এবং তুরস্ক। ভারতীয় সেনার প্রাক্তন উপ-প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল রাহুল আর সিং আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, মে মাসে সংঘটিত সামরিক সংঘাতের সময় ভারত মূলত তিন প্রতিপক্ষের (পাকিস্তান, চীন ও তুরস্ক) মুখোমুখি হয়েছিল। পাকি সেনার ব্যবহৃত প্রায় ৮১ শতাংশ অস্ত্রই চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি। সাম্প্রতিক এই এয়ারলিফটে তুরস্কের Baykar Yiha III কামিকাজে ড্রোন এবং আসিসগার্ড সোঙ্গার ড্রোনের মতো প্রযুক্তি চীন ও পাকি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি এই নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই চুক্তির ফলে কেবল সামরিক রসদ সরবরাহ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্য খর্ব করার জন্য এক সমন্বিত কৌশলগত বলয় গড়ে উঠছে। ভারত শুধু এই বিমান চলাচলের ওপর নজর রাখছে না, বরং মহাকাশ ভিত্তিক ট্র্যাকিং, ড্রোন সোওয়ার্ম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক কৌশলকে আরও ধারালো করতে দ্রুত প্রস্তুতি জোরদার করছে।