সীমান্ত সুরক্ষিত না হলে দেশরক্ষা অসম্ভব! মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত গোটা দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন থাকবে—এমনই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০১৪ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ১,১২৯ একর জমির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনীহা ও অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে ছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, বহুবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি উপলব্ধ করায়নি। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক গড়িমসির পর সম্প্রতি যখন রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তখনই এই জমি পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার মতো অতি সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা উচিত ছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের কোনো মুখ্যমন্ত্রী এসএসবি-র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎপর্যপূর্ণ সংশোধন করে জানান যে, অতীতেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে এই ধরনের জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি কখনই উপস্থিত থাকেননি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টপক্ষকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের পূর্ববর্তী সরকারগুলি জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে সেই ঐতিহাসিক সম্মান দেয়নি, যার পওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে, চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লার প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়া হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ অবশেষে এই ঐতিহাসিক গানটিকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ভূষিত করেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শিলিগুড়ির এই মঞ্চ থেকে অমিত শাহের এই বার্তা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কড়াকড়ির ইঙ্গিত দেয় না, বরং আগামী দিনে বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে সীমান্ত নীতি নিয়ে যে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হবে, তারও পরিষ্কার ছবি ফুটিয়ে তোলে।