মুকুল রায় ছিলেন রাজনীতির প্রতিষ্ঠান’, শোকাতুর সোহেল; প্রিয় ‘মুকুল জেঠু’-র থেকে কী শিখেছিলেন অভিনেতা?

বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলার রাজনৈতিক ও গ্ল্যামার জগত। রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে বহু মানুষের সঙ্গেই তাঁর ছিল নিবিড় ব্যক্তিগত সম্পর্ক। সেই তালিকায় অন্যতম নাম অভিনেতা সোহেল দত্ত। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকাতুর সোহেল। দীর্ঘদিনের পারিবারিক পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত সখ্যতার সুবাদে মুকুল রায়কে তিনি ‘মুকুল জেঠু’ বলেই ডাকতেন। প্রিয় অভিভাবকের চলে যাওয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা অকপটে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা।

সোহেল জানান, রাজনীতির কূটকৌশল নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মেশার অদ্ভূত এক জাদু জানতেন মুকুল রায়। সোহেলের কথায়, “মুকুল জেঠুর থেকে সবথেকে বড় শিক্ষা ছিল ধৈর্য। তিনি বলতেন, রাজনীতি হোক বা অভিনয়— ধৈর্য না থাকলে সাফল্য স্থায়ী হয় না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে শান্ত থেকে সংগঠন সামলাতে হয়, তা তাঁর কাছে শেখার মতো ছিল।” অভিনেতা আরও যোগ করেন, রাজনীতির ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ।

সোহেলের মতে, মুকুল রায় কেবল একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আস্ত একটা রাজনৈতিক অভিধান। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সীমাবদ্ধতায় তাঁকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর কাছে আসা কোনো মানুষই কখনও খালি হাতে ফিরতেন না— তা সে কোনো সাধারণ কর্মী হোক বা পর্দার অভিনেতা। শেষ জীবনে যখন শরীর ভেঙে আসছিল, তখনও মুকুল রায় তাঁর অনুজদের ইতিবাচক থাকার পরামর্শ দিতেন। সোহেল দত্তের কাছে এই স্মৃতিগুলিই এখন আগামীর পাথেয়। বাংলার রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটলেও, সোহেলের মতো অনেক তরুণের মনেই তিনি থেকে যাবেন ‘মুকুল জেঠু’ হয়েই।