মুকুটমণিপুরের কপাল খুলছে, পর্যটনে নতুন জোয়ার আনতে বিশেষ মহাপরিকল্পনা রাজ্য সরকারের

জল, জঙ্গল আর পাহাড়ের মায়াবী মিশেল বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর। কংসাবতী জলাধারের সুবিশাল জলরাশি আর পাহাড়ের কোলঘেঁষা এই পর্যটনকেন্দ্রকে নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি খাতড়ার গুরুসদয় মঞ্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু ঘোষণা করেন, পর্যটন মানচিত্রে মুকুটমণিপুরের আকর্ষণ বাড়াতে এখানে রোপওয়ে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া সফরের প্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা এখন দ্রুত বাস্তবায়নের পথে।

দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রোপওয়ের। পর্যটন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, রোপওয়ে চালু হলে পর্যটকরা ওপর থেকে জলাধার, বনভূমি এবং পাহাড়ের যে অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, তা রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করবে। শুধু শীতের মরশুম নয়, অফ-সিজনেও পর্যটকদের ধরে রাখতে এই পরিকাঠামো বড় ভূমিকা নেবে। এছাড়াও, মুকুটমণিপুরকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকায় একটি ছোট চিড়িয়াখানা তৈরির পরিকল্পনাও সরকারের চিন্তাভাবনায় রয়েছে।

স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড এই পর্যটন শিল্প। হোটেল মালিক, নৌচালক, টোটো চালক এবং হস্তশিল্পীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে মুকুটমণিপুরে পর্যটকের আনাগোনা আশানুরূপ নয়। অফ-সিজনে পর্যটন কেন্দ্র কার্যত জনশূন্য থাকে, যা স্থানীয়দের জীবিকায় টান ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে রোপওয়ে এবং চিড়িয়াখানার মতো আকর্ষণ নতুন করে পর্যটকদের টানবে বলেই বিশ্বাস তাঁদের। স্থানীয়দের আশা, এতে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে না, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

পরিকাঠামো উন্নয়ন শুধু পর্যটনের সংখ্যা বাড়াবে না, বরং পর্যটকদের এখানে কয়েকদিন কাটানোর মানসিকতা তৈরি করবে। ওয়াটার স্পোর্টস এবং আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলে মুকুটমণিপুর খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সেরা ডেস্টিনেশনে পরিণত হবে। এখন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটন ব্যবসায়ী—সবার নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কবে বাস্তবে রূপ নেবে এই স্বপ্ন, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে বাঁকুড়া।