রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রণংদেহী মেজাজে নির্বাচন কমিশন। গত কয়েকদিনের অশান্তি এবং তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, মস্তান বা দুষ্কৃতী যেই হোক না কেন, অশান্তি করার চেষ্টা করলে তাদের রেয়াত করা হবে না। কমিশনের বার্তা, “যে যত বড় মস্তানই হোক, কমিশনের কাছে সব কিছুর ওষুধ আছে।”
অ্যাকশন হবেই! কমিশন দিচ্ছে কড়া বার্তা
প্রথম দফার ভোটের পর যে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছে কমিশন। তাদের মতে, প্রথম দফার ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড় অংশ নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় চলে যাওয়ায় কিছু জায়গায় ফাঁকা মাঠ পেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তবে এবার আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। কমিশনের দাবি, “প্রথম দফার সুযোগ নিয়ে যারা গন্ডগোল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া অ্যাকশন হবে।”
মিতালী বাগের ওপর হামলা: কী জানাচ্ছে কমিশন?
আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি আলাদা রিপোর্ট জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। প্রাথমিকভাবে একে ‘দলীয় কোন্দল’ বলা হলেও, বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং যেখানে গন্ডগোল হয়েছে, সেই সিসিটিভি ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অশান্তি রুখতে নতুন স্ট্র্যাটেজি: বাইক টহল
দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তি রুখতে এক নতুন কৌশল নিয়েছে কমিশন। গলি বা সংকীর্ণ রাস্তায় দ্রুত পৌঁছাতে এবার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী—উভয় পক্ষই মোটরবাইক ব্যবহার করবে। এতে করে যে কোনও গোলমালের খবর পাওয়া মাত্রই বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান কি বুধবারের ভোটকে শান্তিপূর্ণ করতে পারবে? মস্তানদের ওপর কমিশনের এই ‘ওষুধ’ কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





