মিড-ডে মিলের চালে বড়সড় চুরি! হাবড়ার স্কুলে বস্তা খুলতেই বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় মিড-ডে মিলের চালে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সকালে হাবড়ার সোনাকেনিয়া নবপল্লি বিদাবীথি হাই স্কুলে রেশন ডিলারের পাঠানো চালের বস্তাগুলি নামানোর সময় গ্রামবাসীদের নজরে আসে গুরুতর অসঙ্গতি। অভিযোগ, সরকারি সিল করা বস্তাগুলির সেলাই আগে থেকেই খোলা ছিল এবং পুনরায় তা অদক্ষভাবে সেলাই করা হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় গ্রামবাসীরা জোরপূর্বক বস্তাগুলি ওজন করার দাবি তোলেন।
স্কুলে প্রায় পাঁচশো পড়ুয়া থাকলেও পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় তিনশো ছাত্রছাত্রী নিয়মিত মিড-ডে মিলের খাবার খায়। স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে চালের বস্তাগুলি মেপে দেখা যায়, প্রতি বস্তায় ১০ থেকে ১৫ কেজি করে চাল কম রয়েছে। মোট ছয়টি বস্তায় প্রায় ৭০ কেজি চাল কম মেলায় স্কুলে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে রেশন ডিলার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এই জালিয়াতি চলছে। গরিব পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার থেকে চাল চুরি করে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবক শফিকুল ইসলামের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে ডিলারের সঙ্গে আঁতাত করে আমাদের বাচ্চাদের চাল চুরি করা হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” বিষয়টি জানাজানি হতেই বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিজেপি হাবড়া তিন নম্বর মন্ডলের সভাপতি তারক সাহা অভিযোগ করেন, হাবড়ায় একসময় চাল চুরির রাজত্ব ছিল, সেই অভ্যাস এখনো বহাল। কোনোভাবেই এই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।
যদিও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জন কুমার দাস এই দুর্নীতির সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, “বস্তাগুলি দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল, তাই আমরা গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতেই ওজনের ব্যবস্থা করি। ঘটনাটি আমরা দ্রুত বিডিও-কে জানিয়েছি। অতীতেও চালে পোকা থাকায় আমরা তা ফেরত পাঠিয়েছিলাম।” তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ সবসময় খাবারের গুণমান বজায় রাখার চেষ্টা করে।
এদিকে, পুরো বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে হাবড়া বিডিও অফিস। বিডিও সুবীর কুমার দণ্ডপাট ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, অভিযুক্ত রেশন ডিলারকে শোকজ করা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। সরকারি সিল করা বস্তায় চালের পরিমাণ কম থাকার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চালের বস্তাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। আদৌ এই জালিয়াতির পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম হাবড়ার রাজনৈতিক মহল।