মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিনটি ছিল কর্মসূচিতে ঠাসা— দুপুরে ৪ কিলোমিটার হেঁটে তৃণমূলের SIR বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া, জনসভায় বক্তৃতা এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা। তবে দিনের শেষে ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
উদ্যোক্তা-আলোচনা চলাকালীন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নেন এক ‘পুশআপ চ্যালেঞ্জে’। উপস্থিত সকলকে চমকে দিয়ে তিনি একে একে ৩০টিরও বেশি পুশআপ সম্পন্ন করেন। এই দৃশ্য দেখে দর্শকাসনে হাততালির ঝড় ওঠে এবং বহু মানুষ মুহূর্তটি মোবাইল ক্যামেরাবন্দী করেন।
ফিটনেস: রাজনীতির নতুন অঙ্গ
রাজনৈতিক সভা থেকে হঠাৎ ফিটনেস প্রদর্শন— এই পরিবর্তন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে শারীরিক সক্ষমতা এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর আগে, ধর্মতলা থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত প্রায় ৪ কিমি হেঁটে মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি এবং জনসভায় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যও রাখেন। এরপরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই ফিটনেস শো অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই উদ্যোগ বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন ধারা আনছে, যেখানে নেতার শারীরিক ফিটনেসও প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে। তাঁর এই সচেতন উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণামূলক, যা রাজনীতি ও শারীরিক সচেতনতার মধ্যে এক নতুন ভারসাম্য বানাচ্ছে।
এক দশক আগের তুলনায় তাঁর শারীরিক রূপান্তরের বিষয়টিও সামনে এসেছে। নিয়মিত জিম এবং স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাত্রার মাধ্যমে তিনি এই পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর পিসি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিদিন সকালে হাঁটা ও যোগাভ্যাসের মাধ্যমে ফিটনেস বজায় রাখেন— সেই ধারাই যেন অভিষেক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজনীতির চরম চাপ ও ক্লান্তির মধ্যেও তাঁর এই শারীরিক সক্ষমতা এক নতুন বার্তা দিচ্ছে: “নেতৃত্বের জন্যও ফিট থাকা জরুরি।”





