মা মাঠে কাটছেন আখ, ছেলে স্বপ্ন দেখছেন IAS-এর! ৪ বার ব্যর্থতার পর অবিশ্বাস্য সাফল্য প্রবীণের

সাফল্যের গল্প সবসময় ঝকঝকে এসি রুম বা নামি কোচিং সেন্টার থেকে শুরু হয় না। কখনো কখনো তার জন্ম হয় গ্রামের ধুলোবালিমাখা রাস্তায়, দিনমজুর মায়ের ঘামভেজা পরিশ্রম আর সন্তানের অদম্য জেদের মধ্যে। মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার ছোট্ট গ্রাম মিটকির বাসিন্দা কোলাপে প্রবীণ উত্তমরাওয়ের জীবন যেন ঠিক এমনই এক অনুপ্রেরণার আখ্যান। ৪ বার প্রিলিমসে ব্যর্থতা এবং ৩০টিরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিফল হওয়ার পর, অবশেষে UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ৫৮৪ র‍্যাঙ্ক করে নিজের স্বপ্ন ছুঁলেন প্রবীণ।

স্বপ্ন বনাম কঠিন বাস্তবতা:
কৃষিনির্ভর অভাবী পরিবারে বড় হওয়া প্রবীণের পড়াশোনা সহজ ছিল না। দ্বাদশ শ্রেণিতে মাত্র ৬০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পর বাড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কলেজে গিয়ে BSc করতে হতো তাঁকে। ২০১৯ সালে রোহিত শর্মার ধৈর্যশীল এক ইনিংস দেখে UPSC-র স্বপ্ন দেখার শুরু। কিন্তু সেই স্বপ্ন সাত বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে পরিণত হয়।

মায়ের নিঃশব্দ আত্মত্যাগ:
প্রবীণের এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর মা। করোনা অতিমারীতে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছিল। দুই ছেলের স্বপ্নপূরণের জন্য মা বেছে নিয়েছিলেন আখ কাটার শ্রমিকের কাজ। বছরের ছয় মাস দূরের এলাকায় গিয়ে আখ কাটতেন তিনি, বাকি সময় কাজ করতেন অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে। মা রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতেন, আর ছেলে ছোট্ট এক লাইব্রেরিতে বসে স্বপ্ন বুনতেন।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা:
নামিদামি কোচিং বা দামি টেস্ট সিরিজের সুবিধা ছিল না। নিজের ভুল নিজেই বিশ্লেষণ করতেন প্রবীণ। বারবার প্রিলিমসে ব্যর্থ হওয়ার পরও হার মানেননি তিনি। প্রস্তুতির পদ্ধতি বদলেছেন, কিন্তু লক্ষ্য স্থির রেখেছেন। মোট ৬টি প্রচেষ্টার পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

সাফল্যের খবর এল মাঠেই:
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ফল প্রকাশের দিনটি। সাফল্যের খবর পাওয়ার সময়ও প্রবীণের মা অন্যের জমিতে গম কাটার কাজ করছিলেন। সেখানেই ছুটে গিয়ে মা-কে ছেলে জানান, তিনি এখন UPSC সফল।

প্রবীণের এই জয় কেবল একটি সরকারি চাকরির জয় নয়, এটি অদম্য অধ্যবসায় আর এক মায়ের নিঃশব্দ ত্যাগের ফসল। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য আর পরিশ্রম থাকলে অভাবও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।