“মা কালীর গয়নার ভল্টের চাবি গায়েব!”-৪৬ বছর ধরে হদিশ না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ সাবর্ণ পরিবার

কালীঘাট মন্দিরের মা কালীর গয়না ও মূল্যবান সম্পত্তি রাখা ভল্টের চাবি গত ৪৬ বছর ধরে গায়েব। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের দ্বারস্থ হয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। ভল্টের চাবি রহস্যজনকভাবে ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার জোরালো আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজ পদাধিকারবলেই কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কাছে জমা দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিল জানিয়েছে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা ওই গুরুত্বপূর্ণ ভল্টের চাবিটির কোনো খোঁজ মিলছে না ১৯৮০ সাল থেকেই।

দেবতার উদ্দেশ্যে ভক্তদের নিবেদিত গয়না এবং মন্দিরের নানা মূল্যবান সামগ্রী ওই ভল্টেই সংরক্ষিত থাকে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চাবিটি না থাকায় দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভল্টের ভেতরকার পরিস্থিতি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। গয়না বা অন্যান্য সামগ্রী আদৌ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলকাতার প্রাথমিক ইতিহাস ও বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা সাবর্ণ পরিবার মন্দিরের সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির আইনি নথিপত্রের বিস্তারিত হিসাবও কর্তৃপক্ষের কাছে তলব করেছে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর দাবি, মন্দির সম্পদ সংরক্ষণের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়েছে। তারপরে আর নিয়মিতভাবে গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের হিসাব পরীক্ষা করা হয়নি। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে চলা এই চরম অনিয়মের জেরে মন্দিরের সম্পত্তি নয়ছয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পরিবার পরিষদ। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঘটনা কেবল আর্থিক অস্বচ্ছতা নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য ভক্তের গভীর আবেগ ও বিশ্বাস।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির কমিটির কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যা সম্পত্তির নজরদারি ও সুরক্ষাকে আরও বেশি প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, মন্দির কমিটির এক আধিকারিক এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানিয়েছেন, বিষয়টি যেহেতু আদালতের বিচারাধীন স্তরে গড়িয়েছে, তাই আইনি পথেই উপযুক্ত জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ কালীঘাটের এই চাঞ্চল্যকর সম্পত্তি বিতর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।