গঙ্গার করাল গ্রাস থেকে ভুতনি ও রতুয়াকে বাঁচাতে আসরে IIT! নদীর ভাঙন রুখতে রাজ্যে আসছে কোন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি?

ভুতনি ও রতুয়াকে ভয়াবহ গঙ্গার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে এবার আইআইটি (IIT)-এর সাহায্য নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। নদীর পাড়ের তীব্র ক্ষয় ও ভাঙন রুখতে মূলত আইআইটি পাটনা (IIT Patna) এবং আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur)-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হতে পারে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ‘ACBM’ প্রযুক্তি।
বর্তমানে গঙ্গা নদী চরম বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজ্য সেচ দফতর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রতি মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে প্রতিদিন প্রায় ১.৩ কিলোমিটার করে অংশ গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে। এলাকাগুলিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৭৫ মিটার বেগে জল প্রবেশ করছে, যার ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে একাধিক জনবসতিপূর্ণ এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কলকাতা থেকে ভুতনিতে পৌঁছে গেছেন রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সেন্ট্রাল ডিজাইনিং অফিসের একদল বিশেষ ইঞ্জিনিয়ার।
নদীর বাঁধ সুরক্ষায় অত্যাধুনিক ACBM প্রযুক্তি:
নদীর পাড় ভাঙন এবং মাটির ক্ষয় সম্পূর্ণ রোধ করতে ব্যবহার করা হতে পারে অত্যাধুনিক ‘ACBM’ বা আর্টিকুলেটেড কংক্রিট ব্লক ম্যাট্রেস প্রযুক্তি। এটি মূলত একটি অত্যন্ত উন্নত হার্ড-আর্মার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা, যা নদীর তীর ও বাঁধকে জলের প্রবল স্রোতের ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষভাবে কার্যকারী। এই প্রযুক্তিতে উচ্চ-শক্তির পৃথক পৃথক কংক্রিট ব্লককে হেভি-ডিউটি পলিমারিক দড়ি বা স্টিল কেবলের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সুদৃঢ়ভাবে যুক্ত করা হয়।
এর ফলে একটি শক্তিশালী অথচ নমনীয় ম্যাট্রেস বা কম্বলের মতো বিশেষ কাঠামো তৈরি হয়। এই বিশেষ কাঠামো নদীর তলদেশ বা পাড়ের ভূপ্রকৃতির যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে সক্ষম। এর জেরে নদীর প্রবল স্রোতে মাটি সরে গেলেও পুরো সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজে ভেঙে পড়ে না। নদীর তীরের ক্ষয়, বাঁধের পাড় ধস এবং প্রবল জলস্রোতের কারণে মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রবল স্রোতপ্রবণ নদী এবং ভাঙনকবলিত এলাকায় বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়াতে এই আধুনিক সমাধান বিরাট আশার আলো দেখাচ্ছে।