মৃত্যুদণ্ডের পর এবার কি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত? শেখ হাসিনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রকাশ্যে!

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কীভাবে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং নিহতদের পরিবারকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? এই বিষয়ে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সংস্থান রয়েছে। সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই পুরো বিষয়টি কার্যকর করা হবে। পূর্ববর্তী রায়ের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশিকা চাওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে পুরনো রায়গুলির ক্ষেত্রেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথ প্রশস্ত হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। এরই মধ্যে সামনে এসেছে শেখ হাসিনার মোট সম্পত্তির হিসাব। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার (বাংলাদেশি মুদ্রা) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে নগদ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংকে জমা প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা, ২৫ লক্ষ টাকার সেভিংস সার্টিফিকেট এবং ৫৫ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) রয়েছে। এছাড়া উপহারসহ তিনটি গাড়ি, ১৩ লক্ষ টাকার সোনা এবং ৭ লক্ষ টাকার আসবাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। জমি ও প্লটের হিসাব অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি এবং একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার পূর্বাচলে তাঁর নামে একটি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ ছিল, যার মূল্য প্রায় ৩৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। টুঙ্গিপাড়ায় ৬.১০ ডেসিমেল জমির উপর একটি তিনতলা বাড়িও রয়েছে তাঁর নামে। তবে ঐতিহাসিক ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে রয়েছে এবং ‘সুধা সদন’-এর মালিকানায় রয়েছে তাঁর সন্তানরা। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়।