শিক্ষক নিয়োগে বিরাট ধাক্কা! যোগ্যতা ছাড়া স্কুল-কলেজে শিক্ষক রাখলেই কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষা অধিকার আইন (RTE), জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ (NCTE) আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মানদণ্ড না থাকলে দেশের কোনো স্কুল বা কলেজেই আর শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না। একই সঙ্গে এই নির্দেশ লঙ্ঘন করে পূর্বে নিযুক্ত বা অনিয়মিত শিক্ষকদের চাকরি নিয়েও প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজেশ চৌহান নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার (PIL) ভিত্তিতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলায় মূলত অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিভিন্ন বেসরকারি, আংশিক সহায়তা প্রাপ্ত কিংবা অস্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক এবং কর্মীকে কোনো ধরনের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই পিছনের দরজা দিয়ে সরাসরি সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই ধরনের বেআইনি ও অস্বচ্ছ আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ঘোষণা করার জোরদার দাবি জানানো হয়েছিল। মামলার গুরুত্ব বিচার করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ শুধু অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাই জারি করেনি, সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার, সমস্ত রাজ্য সরকার এবং ইউজিসি (UGC)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেশের শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের কাছে এনসিটিই বা ইউজিসি অনুমোদিত যথাযথ ডিগ্রি কিংবা নির্ধারিত যোগ্যতা নেই, তাঁদের চাকরি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এতদিন বহু শিক্ষক পরিকাঠামোর ফাঁকফোকর গলে বা অনিয়মিত উপায়ে শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, আদালতের এই নির্দেশের ফলে তাঁদের ওপর খাড়া নেমে আসতে চলেছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই আদালত এই কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই মামলার পরবর্তী শুনানিগুলিতে সুপ্রিম কোর্ট কী চূড়ান্ত রায় দেয় এবং কেন্দ্র বা রাজ্যগুলি এর বিপরীতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের শিক্ষামহল।