কী বলছেন প্রধান বিচারপতি? ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে এবার সামনে এল এক অত্যন্ত বিস্ফোরক আইনি প্রসঙ্গ। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ गहन पुनरीक्षण (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য উঠে এসেছে। আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার মতো গুরুতর আইনি ত্রুটির কারণে প্রয়োজনে নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন করানোর নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, তা গভীরভাবে বিচার্য বিষয়।
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণন একটি বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট পেশ করেন। তাঁর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ট্রिबুনালের কাছে প্রায় ৮৩ হাজার মামলার রায় এসেছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার ক্ষেত্রে নাম বাদ যাওয়াকে সঠিক বলে প্রমাণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই অনুপাত প্রায় ৯০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মোট ৩৮ লক্ষ মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ লক্ষ মামলা নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে এবং ৭ লক্ষ মামলা নাম বহাল রাখার পক্ষে করা হয়েছে। শাসক দলের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক বাদ যাওয়া ভোটারের সিংহভাগই তাদের রাজনৈতিক সমর্থক ছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি মোট ২ কোটি ৯३ লক্ষ এবং তৃণমূল ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট পেয়েছিল। দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের এই ফারাক মাত্র ৩০ লক্ষের কাছাকাছি। অথচ শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মামলার সংখ্যাই প্রায় ৩৮ লক্ষ। আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বালি, হেমতাবাদ এবং সাতগছিয়ার মতো অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জয়-পরাজয়ের মার্জিন এসআইআর-এ বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার চেয়েও কম। ফলে এই বিশাল ব্যবধান রাজ্য রাজনীতির ফলকে সম্পূর্ণ প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ।
শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এক তাত্ত্বিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো বিধানসভা আসনে জয়ের ব্যবধান মাত্র ৫০ ভোট হয় এবং সেই কেন্দ্রে যদি ১০০ জন ভোটারের নাম অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার আইনি পরিণতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও ডেটা আদালতে দাখিল করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং রাজ্য সরকার বরখাস্ত করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির থাকলেও, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যেকোনো নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক জল্পনা।