মালিকের থেকে টাকা ও ২ দিনের ছুটি নিয়ে হাওয়া! ৭ দিন পর যুবকের বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতেই শিউরে উঠল আসানসোল

“বন্ধুর মা মারা গিয়েছেন, তাঁর সৎকার্যে যেতে হবে”—মালিকের কাছে এই করুণ কারণ দেখিয়ে দু’দিনের ছুটি এবং কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন যুব ক চালক। কিন্তু সেই যে গেলেন, তারপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। না গিয়েছিলেন বন্ধুর বাড়ি, না ফিরেছিলেন কর্মক্ষেত্রে। অবশেষে এক সপ্তাহ পর নিজের বন্ধ ঘরের ভেতর থেকেই উদ্ধার হলো সেই যুবকের মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পচাগলা মৃতদেহ! ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোলের বার্নপুরের রামবাঁধ এলাকায়।
পচা দুর্গন্ধ ছড়াতেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই তরুণ অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম শম্ভু আচার্য্য ওরফে টুকাই (২৫)। তিনি বার্নপুরের রামবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত সোমবার তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই পচাগলা অবস্থায় দেহটি উদ্ধার করে হীরাপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ তারিখ কাজের মালিকের কাছ থেকে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা ও দু’দিনের ছুটি নেন টুকাই। জানান, এক বন্ধুর মায়ের মৃত্যু হওয়ায় তিনি সৎকার ও শেষকৃত্যে যাচ্ছেন। তবে ছুটি নেওয়ার পর থেকেই তাঁর মোবাইল বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের বা বন্ধুদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৭ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর সোমবার টুকাইয়ের ঘর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। তাতেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তাঁর বীভৎস পচাগলা দেহ দেখতে পায়।
রহস্যমৃত্যুর তদন্তে পুলিশ: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্তত কয়েক দিন আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আত্মহত্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের এভাবে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুর খবর ছড়াতেই গোটা রামবাঁধ এলাকায় তীব্র শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে।
পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের (Autopsy) রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কোণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মৃতের সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।