দূরদর্শনের কালজয়ী শো ‘গুল গুলশান গুলফাম’-এর সৃজনশীল জাদুকর আর নেই! ৯৩ বছর বয়সে জীবনাবসান প্রবীণ পরিচালক বেদ রাহির

ভারতীয় টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এল। দূরদর্শনের অত্যন্ত জনপ্রিয় কালজয়ী ধারাবাহিক ‘গুল গুলশান গুলফাম’-এর নেপথ্য কারিগর, প্রখ্যাত লেখক ও দূরদর্শী পরিচালক বেদ রাহি আর আমাদের মধ্যে নেই। রবিবার সকালে মহারাষ্ট্রের থানেতে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। রেখে গেছেন তাঁর দুই কন্যা গীতাঞ্জলি ও পুনম সহ এক ভরা পরিবারকে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সাহিত্য, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বেদ রাহি ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্যকার হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘ইয়ে রাত ফির না আয়েগি’, ‘বেইমান’, ‘আপ আয়ে বাহার আই’, ‘মোম কি গুদিয়া’ এবং ‘বেজুবান’। পরবর্তীতে তিনি পরিচালনার পেশায় আসেন এবং ‘প্রেম পর্বত’, ‘কালী ঘাটা’ ও ‘বীর সাভারকার’-এর মতো ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র উপহার দেন। যদিও বর্তমানে তাঁর পরিচালিত ‘প্রেম পর্বত’ বা ‘কালী ঘাটা’-র মতো ছবিগুলি সহজলভ্য নয়, তবুও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে সেগুলি অমলিন। বিশেষ করে আশির ও নব্বইয়ের দশকের নস্ট্যালজিয়ায় মোড়া দূরদর্শনের ‘গুল গুলশান গুলফাম’ ধারাবাহিকটি তাঁকে ঘরে ঘরে অমর করে রেখেছিল। পাশাপাশি ‘মীরা’ ও ‘রিশতে’-র মতো মননশীল টেলিভিশন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেও তিনি জয় করেছিলেন অগাধ জনপ্রিয়তা।
বেদ রাহির প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম প্রধান সাহিত্য সংস্থা ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা বার্তায় ডোগরি সাহিত্যে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। অ্যাকাডেমি তাঁকে আধুনিক ডোগরি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল রত্ন, চিন্তাবিদ ও সাংস্কৃতিক স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, তাঁর বিখ্যাত গল্প সংকলন ‘আলে’-র জন্য ১৯৮৩ সালে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া অ্যাকাডেমির ফেলোশিপ প্রাপ্ত এই মহান শিল্পীর অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ভারতীয় সাহিত্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এক বহুমুখী প্রতিভার চিরবিদায়ে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।