বিগ বসের ঘরে কান্নার রোল! নন্দিনীর বিদায়ের পর রাজবীরের কোন গোপন কথা ফাঁস করলেন মনামী?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। রিয়েলিটি শোয়ের অন্দরে প্রতিদিন নতুন নতুন মোড় ও আবেগের বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি শোয়ের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন প্রতিযোগী নন্দিনী দত্ত। বর্তমানে তিনি একটি সিক্রেট রুমে অবস্থান করছেন, যদিও তাঁর এই গোপন অবস্থানের বিষয়ে শোয়ের বাকি প্রতিযোগীরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। নন্দিনীর এই অপ্রত্যাশিত প্রস্থান স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগীদের মনে প্রভাব ফেলেছে, তবে সবথেকে বেশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রাজবীর দে। নন্দিনীর চলে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে না পারলেও, রাজবীর এদিন অভিনেত্রী মনামী ঘোষের সামনে এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নন্দিনীর প্রস্থান তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা নয়; বরং তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শকিং পয়েন্ট লুকিয়ে রয়েছে এক পুরনো ট্র্যাজেডিতে—আর তা হল তাঁর বাবার আকস্মিক আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা।
এদিন মনামী ঘোষের সঙ্গে একান্ত আলাপে নিজের শৈশবের কঠিন সংগ্রাম ও বাবার চলে যাওয়ার দুঃসহ স্মৃতির কথা খোলামেলাভাবে ভাগ করে নেন রাজবীর দে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বয়স তখন মাত্র ছয় বছর, আমি ক্লাস টু-এ পড়তাম। আমরা সেই সময় আলিপুরদুয়ারের একটি হোস্টেলে থাকতাম। আমাদের পরিবারে নানা ধরনের আর্থিক ও মানসিক সমস্যা চলছিল। পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আমাদের বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়, পানীয় জলেরও সংকট তৈরি হয়। সেই সময় আমার মা গর্ভবতী ছিলেন এবং আমার ভাই মায়ের পেটে থাকায় মা আলিপুরদুয়ারে তাঁর মামাবাড়িতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু আমার বাবা সেখানে যাননি। তাঁর মধ্যে একটা ইগো বা পুরুষতান্ত্রিক জেদ কাজ করছিল যে তিনি নিজের পরিবারকে ঠিকমতো চালাতে পারছেন না, বাড়িতে জল নেই, বিদ্যুৎ নেই। তিনি সবকিছু নিজের মধ্যে গুমরে গুমরে রাখতেন, কিন্তু কারও কাছে কখনও মাথা নত করতে চাননি।”
স্মৃতির পাতা উল্টে রাজবীর আরও বলেন, “এর কিছুদিন পর আমার ভাই জন্মগ্রহণ করে। ভাইয়ের বয়স যখন মাত্র চার-পাঁচ দিন, তখন একদিন মা আমাকে পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই আমার মামা বাড়িতে আসেন এবং তাঁর কিছু কথা শোনার পরই ঘরের সবাই গম্ভীর হয়ে যান। ওই একই রাতে তড়িঘড়ি গাড়ি বুক করে আমাদের পরিবারের সবাই শিলিগুড়ি চলে আসি। আমার কাকার বাড়িতে পৌঁছানোর পর গোটা ভয়ংকর সত্যটা সামনে আসে। ওই বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখি মা, কাকিমা এবং দিদা সবাই একসঙ্গে বসে অঝোরে কাঁদছেন। আমার মামা আমার কানের কাছে এসে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে ফিসফিস করে বললেন, ‘রাজ, তোর বাবা আর নেই।’ সেই মুহূর্তটি আমার জীবনের এমন এক মোড় ছিল, যখন আমার চোখ থেকে গলগল করে জল গড়িয়ে পড়েছিল। ওটাই ছিল আমার জীবনের সবথেকে বড় ও মর্মান্তিক শকিং পয়েন্ট, যা আজ এত বছর পরেও আমার প্রতি মুহূর্তে মনে পড়ে।”
রাজবীরের এই না বলা গল্প গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন মনামী ঘোষ। সহকর্মী ও প্রতিযোগীর মুখে এমন হৃদয়বিদারক কাহিনি শুনে তাঁর চোখেও জল চলে আসে। তিনি সান্ত্বনার সুরে রাজবীরের পাশে দাঁড়ান। নন্দিনী দত্ত ঘর থেকে সিক্রেট রুমে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হলেও, রাজবীর দে পরবর্তীতে নিজেকে অনেকটাই সামলে নিয়েছেন এবং খেলার গতিপ্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, মূল ঘরের প্রতিযোগীরা যখন নিজেদের খেলায় ব্যস্ত, তখন সিক্রেট রুমে বসে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বাকি হাউসমেটদের প্রতিমুহূর্তের গতিবিধি ও স্ট্র্যাটেজি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নন্দিনী দত্ত। কার মনে কী চলছে, কে কাকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করছে, তার প্রতিটি আপডেট এখন তাঁর নখদর্পণে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে বহুলচর্চিত রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’। জনপ্রিয় অভিনেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আকর্ষণীয় সঞ্চালনায় এই শো এখন দর্শকদের ড্রয়িংরুমে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। এবারের শোয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের জনপ্রিয় তারকারা প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে শুরু থেকেই নজর কেড়েছেন দুর্নিবার সাহা, ভরত কল, নিরঞ্জন মণ্ডল, ঝিলম গুপ্ত, সোনামণি সাহা, তনুশ্রী রায় দাস, সায়ক চক্রবর্তী, মনামী ঘোষ, সৃজলা গুহ, সোহিনী পাল, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং অন্যান্যরা। প্রতিযোগিতার খেলায় নাটকীয় মোড় এনে শোয়ে প্রথম ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে প্রবেশ করেন রাজবীর দে। এরপর দ্বিতীয় ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে এন্ট্রি নেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিতু কমল।
তবে খেলার নিয়ম মেনেই একের পর এক চমক ও এলিমিনেশন ঘটেছে। শুরুতেই শো থেকে বিদায় নেন জয়িতা চট্টোপাধ্যায়। এরপর একে একে এলিমিনেট হয়ে যান অ্যালেক্সজান্দ্রা টেলর, সায়ক চক্রবর্তী এবং সোহিনী পাল। পরবর্তীতে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে ঘরে প্রবেশ করেন অনুষ্কা ঘোষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তার ঠিক পরেই সপ্তাহের মাঝের এলিমিনেশনে বাদ পড়েন দীপেন্দু বিশ্বাস এবং মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় অনুষ্কা ঘোষকে। এর পাশাপাশি, স্বাস্থ্যজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে শো মাঝপথেই ছাড়তে বাধ্য হন ঝিলম গুপ্ত। খেলার উত্তেজনা বজায় রাখতে সম্প্রতি নতুন ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে ঘরে এন্ট্রি নিয়েছেন জনপ্রিয় জুটি সৌরভ দাস ও রণিতা দাস। অন্যদিকে, গত ২৫ অক্টোবর ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে চিরতরে বিদায় নেন অভিজ্ঞ অভিনেতা ভরত কল। একের পর এক টুইস্ট, সেলিব্রিটিদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, গোপন ইমোশন এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের জেরে ‘বিগ বস বাংলা’ এখন চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করেছে, যেখানে দর্শকরা প্রতি মুহূর্তের নাটক উপভোগ করছেন।