ভিনদেশি টাকায় চলছে বড়সড় চক্রান্ত? হরিশ্চন্দ্রপুরের মাটি উত্তপ্ত হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

উৎসবের মরশুমের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধর্মান্তকরণের বিস্ফোরক অভিযোগে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। বিদেশি ফান্ডের বা অর্থের মোটা অঙ্কের লোভ দেখিয়ে এলাকার অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে জোর করে বা প্রলোভন দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু খ্রিস্টান মিশনারি ও সংস্থার বিরুদ্ধে। এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা, যার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিদেশি অর্থ ও গোপন তৎপরতার অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের আদিবাসী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মানুষদের টার্গেট করছিল একটি চক্র। গোপনে বৈঠক করে তাঁদের নানা ধরনের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এলাকার সচেতন বাসিন্দারা এই গোপন তৎপরতা টের পাওয়ার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।
অভিযোগ উঠেছে, ভিনদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার (Foreign Funds) অপব্যবহার করে গরিব মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের এই রমরমা কারবার চলছিল।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও থমথমে পরিস্থিতি: ঘটনার খবর চাউর হতেই স্থানীয় মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা সংশ্লিষ্ট ওই চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিতে সোচ্চার হন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয় এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হলেও, এই জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে মালদহের গ্রামীণ রাজনীতি ও জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।