৫ বছরে ২০০%-এর বেশি লাভ! আরবিআই-এর ঘোষণায় লাফিয়ে বাড়ল গোল্ড বন্ডের দাম, সোনায় টাকা খাটিয়ে কোটিপতি লখনউ থেকে কলকাতা

সোনায় বিনিয়োগ করে রাতারাতি বিপুল ও নজিরবিহীন লাভের মুখ দেখলেন ভারতের সার্বভৌম গোল্ড বন্ড বা Sovereign Gold Bond (SGB)-এর বিনিয়োগকারীরা। পাঁচ বছর আগে যাঁরা এই সরকারি স্কিমে টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন, তাঁদের মূল বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে আজ প্রায় তিন গুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! সোনার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে দামের লাগাতার ঊর্ধ্বগতির জেরেই মিলেছে এই অবিশ্বাস্য রিটার্ন।
আজ, ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নির্দেশে Sovereign Gold Bond 2021-22 Series VII-এর আগাম টাকা তুলে নেওয়া বা ‘আর্লি রিডেম্পশন’-এর মেগা উইন্ডো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলো।
📈 কীভাবে ৫ বছরে টাকা হলো তিন গুণ?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) আজ এই বন্ডের আগাম রিডেম্পশনের ইউনিট প্রতি নির্দিষ্ট দাম ঘোষণা করেছে। আরবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতি গ্রাম সোনার সমতুল্য বন্ডের রিডেম্পশন মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১৪,১৬৭ টাকা।
পাঁচ বছর পেছনের হিসাব কষলে এই মুনাফার আসল চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
২০২১ সালের ইস্যু প্রাইস: ২০২১ সালের ২ নভেম্বর যখন এই বন্ড বাজারে এসেছিল, তখন অনলাইনে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ছিল মাত্র ৪,৭১৫ টাকা (অফলাইনে ৪,৭৬৫ টাকা)। অনলাইনে ডিজিটাল পেমেন্টে প্রতি গ্রামে ৫০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬-এর বর্তমান রিডেম্পশন প্রাইস: ৫ বছর পর আজকের নির্ধারিত দাম হলো ১৪,১৬৭ টাকা প্রতি গ্রাম।
নিট লাভের পরিমাণ: যাঁরা ৪,৭১৫ টাকায় কিনেছিলেন, প্রতি গ্রামে তাঁদের নিট মুনাফা হচ্ছে ৯,৪৫২ টাকা! যা প্রাথমিক মূলধনের ওপর প্রায় ২০০.৪৭ শতাংশের এক বিশাল রিটার্ন।
সহজ কথায়, ৫ বছর আগে যদি কোনো বিনিয়োগকারী অনলাইনে ১ লক্ষ টাকার গোল্ড বন্ড কিনে থাকেন, তবে আজ সেই বন্ড ভাঙালে তিনি হাতে পাবেন ৩ লক্ষ টাকারও বেশি।
🪙 সোনার দামের ওপর ভিত্তি করে দর নির্ধারণ
আরবিআই জানিয়েছে, সার্বভৌম গোল্ড বন্ডের আগাম রিডেম্পশনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (IBJA) দ্বারা প্রকাশিত ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সোনার আগের তিনটি কাজের দিনের (২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ২০২৬) গড় ক্লোজিং প্রাইসের ভিত্তিতে। ফলে বাজারের সমস্ত সাম্প্রতিক গতিবিধির পূর্ণ সুবিধা পেয়েছেন গ্রাহকেরা।
💸 সোনার দামের পাশাপাশি মেলে বাড়তি ২.৫% সুদ
গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কেবল সোনা বৃদ্ধির প্রফিট নয়, বরং তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া নির্দিষ্ট সরকারি সুদ।
এই বন্ডে বার্ষিক ২.৫ শতাংশ হারে নির্দিষ্ট সুদ দেওয়া হয়।
যা প্রাথমিক বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ৬ মাস অন্তর সরাসরি বিনিয়োগকারীর নিবন্ধিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।
ফলে সোনার দাম বেড়ে যে ৩ গুণ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর গত ৫ বছরে পাওয়া সুদের টাকা যোগ করলে মোট প্রাপ্তির অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
⚠️ টাকা তোলার আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি
পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকেই এই নির্দিষ্ট সিরিজের (Series VII) বন্ড ভাঙানো যাবে। তবে লাভজনক অঙ্কের টাকা হাতে পাওয়ার আগে করের বা ট্যাক্সের বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এসজিবির মূলধনী লাভের কর সংক্রান্ত নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড রিডেম্পশন করলে কর বা ট্যাক্স কাটার পর পকেটে নিট কত টাকা আসছে, তা হিসাব করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।