মালদহের কালিয়াচক, একই দিনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জনের মৃত্যু, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের দৌরাত্ম্যে প্রশ্ন

মালদহ জেলার কালিয়াচক এবং ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একই দিনে দু’টি খুনের ঘটনা ঘটল, আর দু’টি ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এই ঘটনায় ভোটের আগে থেকেই কি কালিয়াচক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ বারবার বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের দৌরাত্ম্যে রাশ টানার দাবি করলেও, দুষ্কৃতীদের হাতে অবাধে কীভাবে এই অস্ত্র পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

পুলিশ দু’টি ঘটনারই তদন্ত শুরু করলেও, এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে পারেনি।

প্রথম ঘটনা: কয়লা ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার

গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে ইংরেজবাজার থানার কাটাগড় এলাকার একটি আমবাগান থেকে ওবাইদুল্লা খান (৩১) নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাড়ি কালিয়াচক থানার সুলতানগঞ্জে।

সোমবার বিকেলে মোটরবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওবাইদুল্লা। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন সুইচ অফ ছিল। সোমবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা কালিয়াচক থানায় তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরদিন সকালে তাঁর রক্তাক্ত দেহ ও মোটরবাইক আমবাগান থেকে উদ্ধার হয়। গতকাল মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং ওবাইদুল্লার মাথা থেকে বুলেট উদ্ধার হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনা: পাঁপড় বিক্রেতাকে গুলি করে খুন

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গতকাল রাতে। কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রামের লতিপুর মাঠের কাছে আজহার আলিকে (৫৫) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। তিনি স্থানীয় ফতেখানি কামাত গ্রামের বাসিন্দা এবং জালালপুর স্ট্যান্ডে পাঁপড় ভাজা বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

গতকাল রাতে তিনি স্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। জানা যাচ্ছে, তিনজন দুষ্কৃতী তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছিল। আজহার টাকা দিতে না পারলে দুষ্কৃতীরা তাঁর কাছে থাকা সমস্ত কিছু কেড়ে নেয়। তাদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালাতে শুরু করলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় মানুষজন তাঁকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যালে পাঠালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ (বুধবার) তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক তরজা ও পুলিশের আশ্বাস

মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, যিনি নিজেও কালিয়াচক এলাকার বাসিন্দা, এই ঘটনায় চিন্তিত। তিনি জানান, “ওবাইদুল্লা তৃণমূলের কর্মী। যতদূর জানতে পেরেছি, আজহার তৃণমূলেরই সমর্থক। তবে এই ঘটনা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে রাজি নই। আমরা চাই, দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ুক। দু’টি ঘটনার একটির সঙ্গেও রাজনৈতিক বিষয় নেই।”

অন্যদিকে, বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় তৃণমূলকে বিঁধে বলেন, “তৃণমূল গোটা রাজ্যটাকে দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, নিহত দু’জনই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক। তাঁদের পুলিশ তাঁদের দলের লোকজনকেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কী, সেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।”

পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, “দুই ব্যক্তিই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। দু’টি ঘটনার পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হবে। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান জারি রয়েছে এবং অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে।”