মার্কিন-সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! ইসরায়েল ও ইরানের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তিটি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ককে চরম মাত্রায় উসকে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই আলোচনার বিষয় নয়, বরং ইসরায়েলের কথিত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার, সৌদি আরবের নতুন কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তুরস্কের বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ইরাকের ধ্বংসপ্রাপ্ত ইতিহাসের অধ্যায়গুলোও নতুন করে সামনে চলে এসেছে।

পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকারী সব দেশই পারমাণবিক বোমা তৈরি করে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত স্বল্প-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে অস্ত্র তৈরির জন্য উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই কর্মসূচির চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসরায়েল হলো এই অঞ্চলের সবচেয়ে রহস্যময় পারমাণবিক শক্তি। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করে না, তবে নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা কমপ্লেক্সকে তাদের শক্তির কেন্দ্র মনে করা হয়। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান। দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্র-গ্রেড তৈরির খুব কাছাকাছি।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে এটি কি নেহাতই জ্বালানির প্রয়োজন নাকি বড় কোনো কৌশলগত বার্তা? রিয়াদের স্পষ্ট ঘোষণা, ইরান অস্ত্র অর্জন করলে তারাও একই পথ বেছে নেবে। অন্যদিকে, তুরস্ক তার প্রথম বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘আক্কুয়ু’ নির্মাণ করছে যা মূলত বেসামরিক জ্বালানির উদ্দেশ্যে তৈরি। ইরাকের পারমাণবিক ইতিহাস সাদ্দাম হোসেনের আমলেই ওসিরক চুল্লিতে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুধু বিজ্ঞান বা বিদ্যুতের বিষয় নয়, বরং এটি নিখাঁদ নিরাপত্তা, ক্ষমতা এবং আধিপত্যের প্রশ্ন।