পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ফের চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ওমানের উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে বহনকারী একটি তেলের ট্যাঙ্কার বিকল হয়ে পড়ল। জানা গিয়েছে, ‘এমটি মারিভেক্স’ (MT Marivex) নামের পালাউ-পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটি মার্কিন বাহিনীর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। সতর্কতা অমান্য করায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ (USS Abraham Lincoln) থেকে উড়ে আসা এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানটি জাহাজের ইঞ্জিন এবং স্টিয়ারিং সিস্টেম লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে গোলাবর্ষণ করে।
হামলার জেরে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি বারবার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছিল, তাই এটিকে প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনার পর জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত বা এসওএস (SOS) পাঠানো হলে ওমানি নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের দিকে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করতেই আমেরিকা এই কঠোর অবরোধ জারি করেছে। এপ্রিল মাস থেকে এই জলপথে আমেরিকা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এর আগেও ওই ট্যাঙ্কারটি তিনবার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে চতুর্থবার ব্যর্থ হতে হলো। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
বর্তমানে ওই রুটে কোনো জাহাজকে ইরানের বন্দরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ত্রাণ সামগ্রী বহনকারী জাহাজগুলোকে মানবিক খাতিরে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে ফের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সেনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘মারিভেক্স’ আর ইরানের পথে নেই। এই ঘটনার জেরে ভারত-ইরান সম্পর্কের সমীকরণ ও জলপথের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। ভারতীয় নাবিকদের উদ্ধার হলেও ট্যাঙ্কারটির যে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে, তা ছবিতেই স্পষ্ট।





