মার্কিন কৌশলে বড় বদল, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র গোপন আলোচনায় কি তবে লেবাননই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন বিশ্বজুড়ে বারুদের গন্ধ, ঠিক সেই সময়েই সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে চলেছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর শান্তি আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনার মূল এজেন্ডা হিসেবে উঠে এসেছে লেবানন ও ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত। শান্তি আলোচনার প্রথম অধিবেশন হিসেবে এই জরুরি বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করাকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
চুক্তির জটিল প্রেক্ষাপট:
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। শুক্রবারই শান্তি আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণ তীব্র হওয়ায় তা স্থগিত করতে হয়। ইরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, যার জেরে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো পাকাপোক্ত চুক্তি না হলে এই কৌশলগত সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আমেরিকা ‘ইউএস টোল’ বসানোর কথা ভাবছে।
নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি ও বৈঠকের প্রস্তুতি:
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আপাতত লেবাননে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপটিকে শান্তি আলোচনার পথে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছেন। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানি প্রতিনিধিদের আগমনের সত্যতা স্বীকার করেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। যদিও ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকার সরাসরি এই আলোচনার অংশ নয়, তবুও তাদের মধ্যকার সংঘাতই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ইরানের জাতীয় স্বার্থের বার্তা:
আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশু ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন। দেশের জনগণের আত্মত্যাগের কথা মাথায় রেখেই ওয়াশিংটনের সাথে এই আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ঠিক করবে তেহরান।”
সুইজারল্যান্ডের বরফ ঢাকা উপত্যকায় শুরু হওয়া এই বৈঠক কি শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মেটাতে পারবে? নাকি ট্রাম্পের টোল ট্যাক্স এবং ইরানের পাল্টা চাপের মাঝখানে এই শান্তি আলোচনাও ব্যর্থ হবে—সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে বিশ্ব। এনার্জি মার্কেট থেকে শুরু করে বিশ্ববাণিজ্য—সবই এখন এই আলোচনার ফলের অপেক্ষায় থমকে আছে।