মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ! ৭১ বছর বয়সে নিট পরীক্ষায় বসলেন বৃদ্ধ, ওড়িশার এই ‘ছেলের’ জেদ দেখে অবাক নেট দুনিয়া

বয়স স্রেফ ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকা কিছু সংখ্যা মাত্র, অদম্য ইচ্ছেশক্তির কাছে তা যে হার মানতে বাধ্য— আরও একবার তা প্রমাণ করলেন ওড়িশার এক বৃদ্ধ। তাঁর জীবনের এই লড়াই হার মানাবে যেকোনোও সিনেমার গল্পকেও। যখন অবসরের পর মানুষ শান্তিতে দিন কাটানোর কথা ভাবেন, ঠিক সেই ৭১ বছর বয়সে এসে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে দেশের কঠিনতম প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-তে বসলেন জয়কিশোর প্রধান।

মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন জয়কিশোরবাবুর এই অভাবনীয় লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক আবেগঘন কাহিনী। তাঁর মা স্বপ্ন দেখতেন ছেলে একদিন বড় হয়ে মানুষের সেবা করবে, ডাক্তার হবে। কিন্তু জীবনের টানাপোড়েনে যৌবনে সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর জয়কিশোরবাবু অনুভব করেন, মায়ের সেই শেষ ইচ্ছেটি এখনও তাঁর হৃদয়ে সজীব। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি নতুন করে বইখাতা হাতে তুলে নেন।

ধৈর্য ও অদম্য জেদ ৭০ বছর পার করার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু জয়কিশোরবাবু দমে যাননি। পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনে তিনি নিট পরীক্ষার জন্য দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেন। সম্প্রতি ওড়িশার একটি কেন্দ্রে যখন তিনি পরীক্ষা দিতে ঢোকেন, তখন তাঁকে দেখে পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষী— সবাই তাজ্জব হয়ে যান। অনেকেরই ধারণা ছিল তিনি হয়তো কোনো পরীক্ষার্থীর অভিভাবক, কিন্তু যখন জানা গেল তিনি নিজেই পরীক্ষার্থী, তখন সেখানে উপস্থিত সবাই তাঁকে অভিবাদন জানান।

অনুপ্রেরণার নতুন নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়কিশোরবাবুর এই লড়াই মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, “জেদ থাকলে পাহাড়ও টলানো যায়।” বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আজ এক বড় অনুপ্রেরণা। যেখানে সামান্য ব্যর্থতায় অনেক পড়ুয়া হাল ছেড়ে দেয়, সেখানে ৭১ বছরে এসে ডাক্তার হওয়ার এই লড়াই শেখায় যে স্বপ্নের কোনো ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদ ফুরানোর তারিখ থাকে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরীক্ষা শেষে জয়কিশোরবাবু জানিয়েছেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। মায়ের ইচ্ছে পূরণের পথে বয়সকে তিনি কখনই বাধা হতে দেবেন না। যদি তিনি সুযোগ পান, তবে প্রান্তিক মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান এই বৃদ্ধ।

ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য ওড়িশার এই অকুতোভয় সেনাপতির গল্প আজ এক নতুন আশার আলো। জয়কিশোর প্রধানের এই সাফল্য কি আগামীর শিক্ষাব্যবস্থায় বয়সের সীমা নিয়ে নতুন ভাবনার জন্ম দেবে? সময় তার উত্তর দেবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy