মেদিনীপুরের ইতিহাস পুনরাবৃত্তি! অজয় মুখোপাধ্যায়ের ৫৫ বছর পর ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে ঘরের ছেলে

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ টালবাহানা এবং রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই পড়ল চূড়ান্ত সিলমোহর। আর এই ঘোষণার সাথেই তৈরি হল এক নতুন নজির। বিশিষ্ট গান্ধীবাদী জননেতা অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে মেদিনীপুরের দ্বিতীয় ভূমিপুত্র হিসেবে বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন শুভেন্দু।

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে মেদিনীপুর বরাবরই ‘বিপ্লবী জেলা’ হিসেবে পরিচিত। তবে প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণের ক্ষেত্রে এই জেলার ঝুলি গত কয়েক দশকে শূন্যই ছিল। ১৯৬৭ এবং ১৯৭১ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় দুই দফায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মেদিনীপুরের প্রবাদপ্রতিম নেতা অজয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণের প্রায় সাড়ে তিন দশক পর, মেদিনীপুরের সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে আবার রাজভবনের অলিন্দে পৌঁছে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং নন্দীগ্রামের ফলাফল শুভেন্দুর উত্থানের পথকে প্রশস্ত করেছিল। শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের দীর্ঘ বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতা কাটানোর ক্ষেত্রে শুভেন্দুই এই মুহূর্তে যোগ্যতম মুখ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই অভিষেক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেদিনীপুরের দীর্ঘ রাজনৈতিক বঞ্চনার অবসান। অজয় মুখোপাধ্যায়ের সততা এবং মেদিনীপুরের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার যে লড়াই মানুষ দেখেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর ওপর মানুষ সেই একই ভরসা রাখেন কি না, এখন সেটাই দেখার। নতুন সরকারের এই যাত্রাপথ বাংলার রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy