‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণে ব্রিটেন হতে চায় সহযোগী, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে কিয়র স্টার্মারের বড় ঘোষণা!

ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) নিয়ে বড় মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ব্রিটেনর প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার (UK PM Keir Starmer)। নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে স্টার্মার দাবি করেছেন, ২০২৮ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি (3rd Largest Economy) হিসেবে উঠে আসবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ (Dead Economy) বলে কটাক্ষ করেছিলেন। স্টার্মারের এই ইতিবাচক মন্তব্যকে অনেকেই ট্রাম্পের সেই সমালোচনার পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছেন।
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এক বিস্ময়
স্টার্মার বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আজ গোটা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়। সম্প্রতি দেশটি জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
স্টার্মার বলেন, “২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে ভারত যে গতিতে এগোচ্ছে, তা অভূতপূর্ব। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই পথচলায় ব্রিটেন ভারতের সঙ্গী হতে চায়।”
ভারতে তাঁর প্রথম সফরে এসে স্টার্মার জানান, “আমি যতটা সময় এখানে কাটিয়েছি, তা আমাকে নিশ্চিত করেছে যে ভারত নিজের লক্ষ্যে পৌঁছবেই। আমরা চাই, সেই যাত্রায় ব্রিটেন ভারতের সহযোগী হোক।” এই সফরে একশোরও বেশি ব্রিটিশ উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গী হয়েছেন, যা ব্রিটিশ ইতিহাসে ভারতে আসা সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দল বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক জয় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
কয়েক মাস আগে ট্রাম্পের ‘মৃত অর্থনীতি’র দাবি এবং মার্কিন প্রশাসনের ভারতের পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত (Trump Tariff) এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর কার্যত খারিজ হয়ে যায়। স্টার্মারের এই সফর একইসঙ্গে কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্রিটেন সফরের সময় যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল, এবার সেই চুক্তি নিয়ে আরও পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাক, জুতো ও খাদ্যপণ্যে ব্রিটেন শুল্ক কমাবে, আর ভারত হুইস্কি, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সামগ্রীর মতো ব্রিটিশ পণ্যে শুল্ক হ্রাস করবে।
জাতিসংঘে স্থায়ী সদস্যপদে সমর্থন
স্টার্মারের এই সফরের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কমনওয়েলথ ও জি২০-তে একসঙ্গে কাজ করি। এখন সময় এসেছে ভারতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তার প্রাপ্য মর্যাদার আসন দেওয়ার।”
রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও আফ্রিকান ইউনিয়নের পর এবার ব্রিটেনও ভারতের এই দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষে সমর্থন জানাল।