মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম গড়তে সরকারি জমি দখল! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের অভিযোগে বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল প্রশাসন। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের জেরে এবার ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেস রেকর্ডের নথি, বিডিও-র যাচাই করা রিপোর্ট এবং পাট্টা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পরেই প্রশাসন এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই মাতলা নদীর চরের ওপর এই ‘চাঁদমনি বৃদ্ধাশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিধায়ক পরেশরাম দাস। শুরু থেকেই এই অবৈধ নির্মাণ ও জমি দখল নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল বিরোধী দল বিজেপি। প্রশাসনের তরফে এর আগেও একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও এবার সরাসরি জমি উদ্ধারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো।
প্রশাসনিক নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আদেশ হাতে পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্মস অফিসার (BL&LRO), ক্যানিং-১-এর অনুকূলে সমস্ত জমির দখল হস্তান্তর করতে হবে এবং জমি সম্পূর্ণ খালি করতে হবে। যদি এই নির্দেশ অমান্য করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ওই জমিতে সরকারি অনুদান বা অর্থে নির্মিত পাকা ভবন, শেড এবং সীমানা প্রাচীরের মতো অন্যান্য কাঠামোগুলির বিষয়ে বিডিও, ক্যানিং-১-কে আনুষ্ঠানিক যাচাই সম্পন্ন করে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পুরো ঘটনায় প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝেই আশ্রমের মূল ভবনে বসবাসকারী বয়স্ক মানুষগুলির কথা সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁদের সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত সহায়তা এবং পর্যায়ক্রমে নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের যথাযথ পুনর্বাসন সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মূল ভবন থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। এছাড়া, ক্যানিং থানার আইসি-কে সংশ্লিষ্ট বিএলঅ্যান্ডএলআরও এবং বিডিও-কে তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে এবং পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রশাসনের এই কঠোর নির্দেশিকাটি ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক ল্যান্ড (ইভিকশন অফ অনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) অ্যাক্ট, ১৯৬২’-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মেনেই জারি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নথি, রিপোর্ট এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে এই সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।