কড়া নাড়ছে গণেশ চতুর্থী! কোন শুভ সময়ে ঘরে স্থাপন করবেন বাপ্পাকে? জানুন দিনক্ষণ

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরেই ঢাকের বোলে, ধূপ-ধুনোর গন্ধে মুখরিত হবে চারিদিক। আসছেন বিঘ্নহর্তা, সিদ্ধিদাতা গণপতি বাপ্পা। ভাদ্র মাস মানেই গণেশ বন্দনার মাস। দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই এই মহা উৎসব বাঙালির মনে আনন্দের আমেজ নিয়ে আসে। চলতি বছরেও অতি শীঘ্রই ঘরে ঘরে শুরু হতে চলেছে গণপতি বাপ্পার আবাহন। শাস্ত্র ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে উদযাপিত হবে বিঘ্নহর্তার এই মহা উৎসব। পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থী পালিত হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার (২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)। এই দিন থেকেই শুরু হবে ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য গণেশ উৎসব, যা ২৪ সেপ্টেম্বর অনন্ত চতুর্দশীতে গণপতি বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। মুম্বইয়ের লালবাগচা রাজা থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। পঞ্জিকা মতে, চতুর্থী তিথি শুরু হবে ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাত ৯টা ১২ মিনিট থেকে এবং তা থাকবে ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্র মতে, মধ্যাহ্নকালে গণেশ পুজোই সবচেয়ে শুভ বলে বিবেচিত হয়। বিশ্বাস করা হয়, ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর মধ্যাহ্নেই গণেশের জন্ম হয়েছিল। সেই কারণে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ০৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে পুজোর সবচেয়ে প্রশস্ত সময়। এই নির্দিষ্ট সময়ে বাপ্পাকে স্থাপন করলে সর্বাধিক শুভ ফল লাভ করা সম্ভব।গণেশ চতুর্থী কেবল একটি উৎসব নয়, এটি নতুন সূচনার এক পবিত্র প্রতীক। ব্যবসা, নতুন গৃহপ্রবেশ কিংবা যেকোনো শুভ কাজের আগে বিঘ্নহর্তার বন্দনা করার প্রাচীন রীতি রয়েছে। এই পবিত্র দিনে বাপ্পাকে তাঁর প্রিয় ভোগ অর্পণ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। গণেশের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো মোদক। পাশাপাশি, ২১টি দূর্বা ঘাসের গোছা অর্পণ করলে বাপ্পা দ্রুত তুষ্ট হন। এছাড়া লাল ফুল ও সিঁদুর অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ লাল রং গণেশের অত্যন্ত প্রিয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে পূর্ণ নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে পুজো করলে জীবনের সমস্ত বাধা-বিঘ্ন দূর হয়, বুদ্ধি ও সিদ্ধি লাভ হয় এবং ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি নেমে আসে। মুম্বই থেকে কলকাতা কিংবা মহারাষ্ট্র থেকে বাংলা—আজ সারা দেশেই এই উৎসবের আনন্দ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।