একই দিনে জোড়াফুলের জোড়া সভা! আদালতের কড়া শর্তে কার কার কপালে স্বস্তি মিলল?

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র দড়ি টানাটানি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউস কিংবা গান্ধীমূর্তির পাদদেশ ছাড়িয়ে এবার তৃণমূলের দুই ছাত্রগোষ্ঠীর মর্যাদার লড়াই গড়িয়েছিল সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে। আগামী ২৮ অগাস্ট নির্ধারিত প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা করার অনুমতি চেয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত—উভয় পক্ষই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিল। এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানিতে আজ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী রায় ঘোষণা করেছে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের রাস্তার এক অংশে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করবে রানি রাসমণি এভিনিউয়ের একাংশে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই জায়গার রাস্তারই একটি নির্দিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ ১৫০০ জন সমর্থক ও কর্মী নিয়ে এই জমায়েত ও সভা করতে পারবে। আগামী ২৮ অগাস্ট দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই সভাগুলির সময়সীমা নির্ধারিত করা হয়েছে। শহরের স্বাভাবিক ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এছাড়া, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই গোষ্ঠীকে ২৬ অগাস্ট সন্ধ্যার মধ্যে ১৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের নাম পুলিশের যুগ্ম কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। আদালতের এই কড়া শর্ত ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা কীভাবে পালিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।