সাজা স্থগিত নয়! সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, দু’সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ তরুণ তেজপালকে

সুপ্রীম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন ‘তেহালকা’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপাল। ২০১৩ সালের আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় তাঁর ১০ বছরের জেলের সাজা বহাল রেখে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সাজা স্থগিত বা আত্মসমর্পণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার বিচারপতি অলোক আরাধে তাঁর আত্মসমর্পণে ছাড়ের আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হলে তবেই মামলার পরবর্তী আপিল শুনানি তালিকাভুক্ত করা হবে।
তরুণ তেজপালের পক্ষে এ দিন সওয়াল করেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও অমন লেখি। তাঁরা আদালতকে জানান যে, ফৌজদারি আপিল শুনানির তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে আসামির আত্মসমর্পণ করা কোনো বাধ্যতামূলক আইনি শর্ত নয়। সিব্বল বম্বে হাইকোর্টের গত ৬ আগস্টের রায়ের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে তেজপালকে আত্মসমর্পণের জন্য চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ে এ কথাও মানা হয়েছিল যে মামলাটি প্রায় ১৩ বছরের পুরনো এবং তেজপাল এখন একজন প্রবীণ নাগরিক, যাঁর সমাজে গভীর শিকড় রয়েছে। সিব্বল আরও যুক্তি দেন যে আপিল শুনানি শুরু হওয়ার আগে তেজপালকে মাত্র কয়েক দিনের জন্যও কারাগারে পাঠানোর কোনো বাস্তবসম্মত বা আইনি যৌক্তিকতা নেই।
তবে এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, অপরাধের গম্ভীর প্রকৃতি এবং অভিযুক্তকে শোনানো সাজার গভীরতা বিশ্লেষণ না করে এমন কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন যে এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় অপরাধের প্রকৃতি এবং আদালতের দেওয়া সাজার গুরুত্ব খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক। বেঞ্চ আরও আমলে নেয় যে সিব্বল এর আগে যুক্তি দিয়েছিলেন যে হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের মূল খালাসের রায়কে উল্টে দিয়ে এই সাজা শুনিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নির্দেশ তেজপালের আইনি লড়াইয়ে বড়ো সেটব্যাক হিসেবে দেখা হচ্ছে।