পঞ্জাব বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো আজ। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের আচরণকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সংসদ কক্ষ। বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ‘মদ্যপ’ অবস্থায় বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে অভব্য আচরণ করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের বিধায়করা।
শুক্রবার দুপুরে অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিরোধী বেঞ্চের বিধায়কদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কথা ও আচরণ ছিল অত্যন্ত অসংলগ্ন। একজন জনপ্রতিনিধি এবং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ কাম্য নয় বলে তোপ দাগেন তারা। হইহট্টগোল শুরু হলে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিরোধীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন।
বিরোধী দলনেতাদের বক্তব্য, বিধানসভার মতো একটি পবিত্র স্থানে মুখ্যমন্ত্রী যে উদাহরণ তৈরি করলেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত ও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিরোধী বিধায়করা স্লোগান দিতে দিতে কক্ষ ত্যাগ করলে দীর্ঘক্ষণ কাজ ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, শাসক দল আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করতেই বিরোধীরা এমন ভিত্তিহীন কুৎসা রটাচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে—সংসদের অন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? দিনভর এই টানাপড়েন বিধানসভার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্তরে নানা অভিযোগ উঠেছিল, তবে বিধানসভার ভেতরে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





