“জনসেবা সবার আগে”— রাজনীতির মঞ্চে এই স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে তার উল্টো ছবি দেখা গেল ইংরেজবাজার পৌরসভায়। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ বাকি থাকলেও, নির্বাচনের ব্যস্ততাকে ঢাল করে স্থগিত করে দেওয়া হলো এপ্রিল মাসের ‘বোর্ড অফ কাউন্সিলর’ (BOC) মিটিং। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন পৌরসভার অন্দরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তেমনই থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প।
কেন থমকাল বিওসি মিটিং?
ইংরেজবাজার পৌরসভা সূত্রে খবর, প্রতি মাসেই বিওসি মিটিংয়ে শহরের রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং সাফাই অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এপ্রিল মাসজুড়েই ছিল ভোটের ডামাডোল। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কর্মী— সকলেই ভোট প্রচারে ব্যস্ত। এই অজুহাত দেখিয়েই এপ্রিলের নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
বিরোধীদের নিশানায় শাসক দল
এই ঘটনা সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, ভোটের অজুহাত দিয়ে আসলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নাগরিক সুবিধার চেয়ে দলের প্রচারই কি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন বিরোধী কাউন্সিলররা। তাঁদের অভিযোগ, বিওসি মিটিং না হওয়ায় অনেক জরুরি ফাইলের অনুমোদন আটকে গিয়েছে, যার ফল ভুগতে হবে শহরের বাসিন্দাদেরই।
কী বলছে পৌর কর্তৃপক্ষ?
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড। কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় এবং অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মীরা নির্বাচনী ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় মিটিং করা সম্ভব হয়নি। ভোট মিটলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বকেয়া কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ইংরেজবাজারের পৌরপ্রধান।
তবে ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর নতুন করে কাজ শুরু হতে কতটা সময় লাগে, এখন সেটাই দেখার। তত দিন পর্যন্ত ইংরেজবাজারের বাসিন্দাদের জন্য পরিষেবার চাকা কিছুটা মন্থর হয়েই রইল।
আপনার এলাকার উন্নয়নের সব খবর এবং ভোটের প্রতি মুহূর্তের আপডেট সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের চ্যানেল। সরাসরি যুক্ত থাকতে লাইক দিন আমাদের পেজে।





