৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল। তার ঠিক আগেই ইভিএম বিতর্ক এবং ভোট পরবর্তী অশান্তির আশঙ্কায় বেনজির পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গণনা কেন্দ্রের আশেপাশে জমায়েত রুখতে কলকাতার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জারি করা হলো ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা হিসেবে পরিচিত ছিল)। ইভিএম ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের আবহেই এই ‘নিরাপত্তা কবচ’ তৈরি করল লালবাজার।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, গণনার দিন বা তার আগের রাতে বড়সড় জমায়েত থেকে উত্তেজনার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা বিভাগ। কোনোভাবেই যাতে স্ট্রং রুম বা গণনা কেন্দ্রের সামনে ভিড় করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা না হয়, সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
কোথায় কোথায় জারি হলো ১৬৩ ধারা?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের সাতটি বিশেষ পয়েন্ট, যেখানে স্ট্রং রুম রয়েছে এবং ৪ মে গণনা হবে, তার আশেপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ গণনা কেন্দ্রগুলি।
উত্তর ও মধ্য কলকাতার স্পর্শকাতর স্ট্রং রুম এলাকা।
শাখাওয়াত মেমোরিয়াল ও সেন্ট জেভিয়ার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি।
কী কী করা যাবে না?
১. সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ৫ জন বা তার বেশি মানুষ একত্রে জড়ো হতে পারবেন না। ২. লাঠি, অস্ত্র বা কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ বহন করা নিষিদ্ধ। ৩. কোনো রাজনৈতিক মিছিল বা জমায়েত করা যাবে না। ৪. কোনো ব্যক্তি শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবে।
নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে শহর
কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “৪ মে-র আগে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি স্ট্রং রুম চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকছে। ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
৪ মে ইভিএম-এর লড়াই কার দিকে মোড় নেয়, তা তো সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগে তিলোত্তমার এই সাত জায়গায় জারি হওয়া ১৬৩ ধারা বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবারের লড়াই কতটা ‘হাই-ভোল্টেজ’।
ভোট গণনার প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট এবং ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের চ্যানেল। সরাসরি যুক্ত থাকতে লাইক দিন আমাদের পেজে।





