মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মীদের বড় ধাক্কা! নিয়মিতকরণের আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে করা আবেদনগুলো খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এ. জি. মসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি চলছিল। দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াইয়ে ৩৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৩ জনকে নমুনা হিসেবে বেছে নিয়ে তাঁদের বিষয়টি বিশদভাবে খতিয়ে দেখে আদালত। কিন্তু রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই ১৩ জনের কারোরই দাবি পেশ করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিকতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বেঞ্চের মন্তব্য, “১৩ জন আবেদনকারীর কেউই আমাদের প্রভাবিত করতে পারেননি।” ফলে, বাকি আবেদনগুলো আর খতিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়েনি এবং আদালত সবকটি পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ এবং নিয়মিত বেতনের দাবিতে প্রায় ৪০টিরও বেশি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। বিতর্কটি মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা পরিষেবা কমিশন আইন, ২০০৮’ নিয়ে। অতীতে কলকাতা হাইকোর্ট এই আইনটি বাতিল করলেও, ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি, সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ সালের এই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান মামলাটিতে আবেদনকারীরা স্থায়ী পদ ও বেতনের দাবি জানালে আদালত তা নাকচ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসার একাংশ শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।