আবাস যোজনার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা অবশেষে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের বড় কৈমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযুক্ত ওই পঞ্চায়েত সদস্যের নাম বিজয় বর্মন। অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত গ্রামবাসীদের তীব্র চাপ এবং ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে স্থানীয় মানুষজনের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল ওই সদস্যের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি ব্যর্থ হন, অথচ টাকা ফেরত দিতেও গরিমসি করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সরব হন। স্থানীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধার পর গত বুধবার ওই পঞ্চায়েত সদস্য তড়িঘড়ি ৮৮ জন প্রাপককে তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, গতকাল একটি বিশেষ আলোচনার পর জনসমক্ষেই ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মোট ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন অভিযোগকারী মানুষজন। যদিও এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য নিচুতলার নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অস্বস্তি যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, প্রশাসনের চোখের আড়ালে ঠিক কতদিন ধরে এই ‘কাটমানি’র কারবার চলছিল? টাকা ফেরানোর মাধ্যমে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও, সরকারি প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অভিযোগ শীতলকুচির রাজনৈতিক আবহকে যে বেশ গরম করে তুলেছে, তা স্পষ্ট।





