মাত্র ৬০ দিনে বিচার! ৩ বছরের শিশুকন্যা খুনের ঘটনায় অপরাধীকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

৩ বছরের একরত্তি শিশুকন্যাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মৃত্যুদণ্ড দিল পুনের বিশেষ আদালত। সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক এস আর সালুঙ্খে এই রায় ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ (rarest of rare) বলে অভিহিত করেছে আদালত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিচার প্রক্রিয়া: ঘটনাটি গত ১ মে মহারাষ্ট্রের নাসরাপুর গ্রামের। অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন ও বাছুর দেখানোর নাম করে ওই শিশুকন্যাকে গবাদি পশুর খামারে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করে ভীমরাও কাম্বলে নামে ওই বৃদ্ধ। ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ তৈরি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি করেছে আদালত। গত ২৫ জুন কাম্বলেকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং সোমবার সাজা ঘোষণা করা হলো।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বিকৃত মানসিকতা: রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক বলেন, ‘‘নির্যাতিতা ছিল এক নিষ্পাপ ও অসহায় শিশু। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের কামবাসনা চরিতার্থ করতে ঠান্ডা মাথায় তাকে খুন করেছে। এটি চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয়।’’

আসামিপক্ষ বয়সের যুক্তি দেখিয়ে শাস্তির বিরোধিতা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। বিচারক স্পষ্টভাবে জানান, অভিযুক্তের অতীতের অপরাধের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। অতীতে এক প্রৌঢ়া, এক কিশোরী এবং এক পশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বয়স এখানে কোনও ছাড়ের কারণ হতে পারে না, কারণ এই বয়সেও অপরাধীর লালসা এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।