মাটি ফুঁড়ে গর্জন, ভেঙে পড়ল বহুতল! ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে জারি জরুরি অবস্থা

ভেনেজুয়েলার বুকে নেমে এল এক অভিশপ্ত বিপর্যয়। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটি। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থা (USGS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে ৭.৫ এবং পরে ৭.২ তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এই বিধ্বংসী কম্পনের পর অন্তত ২০ বার আফটার শক অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে আসছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মুখে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট। দেশের মূল বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল সব বহুতল চোখের পলকে ভেঙে পড়ছে। কোথাও রাস্তার বুকে চিরে গিয়েছে গভীর ফাটল, কোথাও আবার বহুতলের ছাদে থাকা স্যুইমিং পুল থেকে জল ঝরনার মতো ঝরে পড়ছে। ধুলোর ঝড়ে আকাশ আচ্ছন্ন। প্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
কারাকাসের বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে আসছে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা। ৫৬ বছর বয়সি করো মার্টিনেজ জানান, মাটির নিচ থেকে এক বিকট গর্জন উঠে আসছিল। ফ্রিজ, আসবাবপত্র সব উল্টে পড়ে গিয়েছিল। ৮৬ বছরের মারিয়া রোমেরোর মতে, ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পকেও ছাড়িয়ে গেছে আজকের এই প্রলয়। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হলেও, মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র পরে জানায়, সেই ঝুঁকি আপাতত নেই।
রাজনৈতিক ডামাডোলের এই কঠিন সময়ে দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো টেলিগ্রাম চ্যানেলে জনগণের প্রতি সংহতির বার্তা দিয়েছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা এক বড় পরীক্ষার সম্মুখীন। আমাদের ঐক্য ও সংহতিই এখন বেঁচে থাকার পথ।” এদিকে, সরকারি উদ্ধারকারী দল এবং সেনা উদ্ধারকাজ শুরু করলেও, বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে কত মানুষ আটকে আছেন, তা নিয়ে সংশয় ক্রমশ বাড়ছে। ভেনেজুয়েলার এই অন্ধকার সময়ে গোটা বিশ্ব এখন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।