মাঝরাতে রাজস্থানে বীভৎস কাণ্ড! আসামিকে বাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথেই সপাটে ধাক্কা ট্রাকের, মৃত ৩

শুক্রবার ভোরে রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো সড়ক দুর্ঘটনা। জাতীয় সড়ক ৪৮-এর মন্ডল মোড়ের কাছে একটি নিয়ন্ত্রহীন ও দ্রুতগামী ১০ চাকার লরি সপাটে একটি পুলিশের মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ আধিকারিক এবং এক কুখ্যাত অপরাধী সহ মোট তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুই পুলিশ কর্মী একটি চুরির মামলার কুখ্যাত আসামিকে বাইকে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই পেছন থেকে কালান্তক রূপ নিয়ে ধেয়ে আসে ওই ঘাতক ট্রাকটি। এই ঘটনার পর থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। চিতোরগড় জিআরপি (GRP) থানায় কর্মরত হেড কনস্টেবল লেখরাজ বাগরি এবং কনস্টেবল রবীন্দ্র কুমার জাট একটি বাইক চুরির মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ছোটু ভিলকে মন্ডল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ভিলওয়াড়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মন্ডল মোড়ের কাছাকাছি আসতেই একটি দ্রুতগামী ঘাতক ট্রাক পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে পিষে দিয়ে চলে যায়।

সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় দুই কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আসামি ছোটু ভিল গুরুতর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনে ছুটে আসেন এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় খবর দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ছোটু ভিলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভিলওয়াড়ার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে পাঠায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই আসামি।

এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পেছনে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের একটি বড়সড় পরিকাঠামোগত অভাব ও গাফিলতি সামনে এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, খোদ চোর বা দাগী আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই মুহূর্তে ওই দপ্তরের কাছে কোনও বড় সরকারি চার চাকার গাড়ি বা ভ্যান মজুত ছিল না। ফলে নিরুপায় হয়েই ওই দুই পুলিশ কর্মী নিজেদের ব্যক্তিগত বাইকে করে ঝুঁকি নিয়ে আসামীকে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। আর এই পরিকাঠামোগত অভাবই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তিনটি তরতাজা প্রাণ। দুর্ঘটনার পরপরই জাতীয় সড়ক ৪৮-এ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে মহাসড়কের দু’পাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চেষ্টা চালানোর পর হাইওয়ে পুলিশ ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।

এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক ঘটনায় গোটা রাজস্থান পুলিশ বিভাগে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত দুই সাহসী পুলিশ অফিসারের পরিবার এবং সহকর্মীরা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজস্থান পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘাতক ট্রাক ও তার পলাতক চালকের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy