মাঝরাতে মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে আগুন! প্যান্ট্রি কারে ভীতিজনক কাণ্ড

দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গার ভাঙনের কবলে পড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। আর এবার এই ভাঙনের জেরে মালদা ডিভিশনে চরম ব্যাহত হলো রেল পরিষেবা। সাহেবগঞ্জ–বারহাড়োয়া সেকশনে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে রেললাইনে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। সকরিগলি ও মহারাজপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে লাইনে ধস নামায় বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মোট ১২টি ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ, যার ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রেল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আজ হাওড়া থেকে সাহেবগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে না। পাশাপাশি বারহাড়োয়া-সাহেবগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ-বারহাড়োয়া প্যাসেঞ্জার সহ মোট ৯টি মেমু (MEMU) ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। তবে যে সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেন এই রুট দিয়ে যাতায়াত করে, সেগুলির যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। ভাঙনের জেরে গয়া–হাওড়া এক্সপ্রেস, বালিয়া–শিয়ালদা এক্সপ্রেস এবং কাঠগুদাম থেকে হাওড়ামুখী বাঘ এক্সপ্রেস ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। গয়া–হাওড়া এক্সপ্রেস কিউল–ঝাঝা–আসানসোল হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। এছাড়া বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত ও শুরুর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৎপর রয়েছে রেল বিভাগ।
অন্যদিকে, ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (CSMT) ইয়ার্ডে মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ট্রেনটির খালি রেক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভোর ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ ট্রেনটির প্যান্ট্রি কারে (নম্বর SCR/192967) হঠাৎ আগুন দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং মাত্র কয়েক মিনিটের চেষ্টায় ভোর ৪টা ৫ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যবশত, ট্রেনটি খালি থাকায় এবং কোনো যাত্রী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।