এক ক্লিকেই ঘরের দরজায় পণ্য! ভারতের বৃহত্তম ফ্লিপকার্ট হাবের অন্দরে কীভাবে তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মাত্র একটা ক্লিক আর তাতেই ঘরে বসে পছন্দের জিনিস হাতে পাওয়া—গ্রাহকদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সহজ মনে হলেও এর নেপথ্যে কাজ করছে এক বিরাট ও সুসংগঠিত কর্মযজ্ঞ। হাই-লেভেল অপারেশনস, ব্যাকএন্ড লজিস্টিকস, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং নিখুঁত অটোমেশনের হাত ধরে ভারতের ই-কমার্স ইকোসিস্টেমে একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছে ফ্লিপকার্ট। এই বিশাল কর্মপদ্ধতির অন্যতম আঁতুড়ঘর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হরিণঘাটায়, যেখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে দেশের সবথেকে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টার। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলা এই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের কৌতূহল মেটাতে এর অন্দরের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
হরিণঘাটার এই মেগা হাবটিতে পণ্য আসার পর থেকে শুরু হয় আসল প্রক্রিয়া। ডেলিভারি পার্টনারদের মাধ্যমে সেলারদের কাছ থেকে পণ্য আসার পর লেবেলিং এবং কোয়ালিটি চেক পেরিয়ে অটোমেটিক মেশিনের সাহায্যে তা নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষিত হয়। নতুন প্রোডাক্টের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা মাপার পাশাপাশি প্রতিটি ক্যাটেগরির জন্য থাকে আলাদা কোড। প্যাকেজিং এবং আউটবাউন্ড ডিসপ্যাচের জন্য সুনির্দিষ্ট সেকশনের পাশাপাশি ১৮টি স্পাইলার মেশিনের মাধ্যমে পণ্যগুলি বিভিন্ন ফ্লোরে সর্ট করা হয়। পিনকোড অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পণ্য আলাদা করার এই কাজে যুক্ত রয়েছেন হাজার হাজার কর্মী। একদিকে যেমন আধুনিক অটোমেশন ও টেকনোলজি রয়েছে, তেমনই এই হাব রাজ্য তথা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানেরও বড় ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
পুরো টেকনিক্যাল সাপোর্টটি বেঙ্গালুরু হেডকোয়ার্টার থেকে পরিচালিত হওয়ায় নেটওয়ার্কিং সমস্যার সমাধান হয়ে যায় নিমেষে। উৎসবের মরশুমে কেনাকাটার চাপ সামলাতে ইকার্ট তাদের সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করেছে। দেশজুড়ে ১৪ মিলিয়ন কিউবিক ফুট ওয়্যারহাউসিং স্পেস যুক্ত হওয়ায় সংরক্ষণ ক্ষমতা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি ‘লাস্ট-মাইল ডেলিভারি’ ও একইদিনে পণ্য পৌঁছানোর গতি বাড়াতে ৯০০-রও বেশি নতুন ডেলিভারি হাব ও ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’ মাইক্রো ফুলফিলমেন্ট সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। হরিণঘাটার ৬টি মেজানাইন স্তর জুড়ে বিস্তৃত ৫০ লক্ষ ঘনফুটের এই হাবটি দেশের প্রথম ‘ইন্ডিয়ান গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল’-এর ‘প্ল্যাটিনাম’ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ফুলফিলমেন্ট সেন্টার। রোবোটিক আর্ম ও ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ কনভেয়র বেল্ট নেটওয়ার্কে সজ্জিত এই কেন্দ্রটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই ডিজিটাল বাণিজ্যে বাংলার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। উৎসবের এই মরশুমে আড়াই লক্ষেরও বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে ফ্লিপকার্ট প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা কেবল একটি মার্কেটপ্লেস নয়, বরং ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার।