মাঝআকাশে ৩০০ ফুট খাদের কিনারায় এয়ার ইন্ডিয়া! গাঁজাকান্ডে ফাঁস ভয়ংকর তথ্য, শিউরে উঠবেন

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া মারাত্মক দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি এবং চাঞ্চল্যকর প্রশাসনিক লুকোচুরি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝআকাশে বিমানটির একসঙ্গে তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম বিকল হয়ে যাওয়ায় এটি আকস্মিকভাবে ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে। অথচ বিমান সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে এই ভয়ংকর দুর্ঘটনাকে নিছক একটি সাধারণ ‘টার্বুল্যান্স’ বা ঝাঁকুনি বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ককপিটের রক্ষণাবেক্ষণ বা মেনটেন্যান্স রিপোর্ট সামনে আসতেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে জানা গেছে, গত ৪ অগস্ট দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের পর ১১টা ১৪ মিনিটে প্রকাশিত মেনটেন্যান্স রিপোর্টে ককপিটের ভয়াবহ পরিস্থিতির আসল চিত্রটি বেরিয়ে আসে। এয়ারবাস এ-৩২০ নিও মডেলের ওই বিমানটিতে থাকা তিনটি আলাদা হাইড্রোলিক সিস্টেমে একসঙ্গে নিম্ন চাপের সতর্কবার্তা দেখা যায়, যার ফলে স্বয়ংক্রিয় অটো-পাইলট ব্যবস্থা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের অংশ এবং ডান দিকের জরুরি দরজাগুলিতেও বিপদ সংকেত বাজতে শুরু করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন কেবিন ক্রু গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনার পরই সামনে এসেছে আরও এক মারাত্মক বিতর্ক। জানা গিয়েছে, বিমানটি যখন মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে যাচ্ছিল, সেই সংকটজনক মুহূর্তে পাইলট-ইন-কমান্ড সুদীপ বশিষ্ঠ নিজের আসনে ছিলেন না। শুধু তাই নয়, দিল্লিতে অবতরণের পর তাঁর মেডিকেল পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়ে, যা দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও পজিটিভ আসে। যদিও ওই পাইলট ব্যক্তিগত কারণে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কথা দাবি করেছেন, তবুও এই গুরুতর গাফিলতির জেরে দুই প্রধান পাইলটকেই আপাতত বিমান ওড়ানো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিমান সংস্থার এই চরম লুকোচুরি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে আকাশপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।