“মাঝআকাশে রক্তারক্তি!”-নিষিদ্ধ পাইলট কীভাবে ঢুকেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073)-এর ককপিটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সিএনএন (CNN)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো সেই কো-পাইলটের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। তাঁর নাম হামাম-আল হাম্মামি, যিনি ওমানের নাগরিক। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে নিজের দেশ ও বিমান সংস্থায় নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও কীভাবে তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক বিমানের ককপিটে পৌঁছলেন?

কে এই হামাম-আল হাম্মামি?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, হামাম-আল হাম্মামির জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হলেও তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের একটি বড় অংশ তিনি সিরিয়াতে কাটিয়েছেন এবং সেখানেই তিনি ইসলামি উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তাঁর লিংকডইন (LinkedIn) প্রোফাইল ঘেঁটে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ওমান এয়ার-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর উগ্র ও চরমপন্থী মতাদর্শের কথা প্রকাশ্যে আসার পরই ওমান এয়ার তাঁকে বিমান ওড়ানো থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ফ্লাইট ট্রেনিং মাঝপথেই বন্ধ করে দেয়। এরপর মরক্কোর একটি বিমান সংস্থায় কিছুকাল যুক্ত থাকার কথা থাকলেও পরে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে পাইলট হিসেবে চাকরি পান।

কূটনৈতিক ও নিরাপত্তার প্রশ্নচিহ্ন

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ওমানের সঙ্গে ইজরায়েলের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আব্রাহাম চুক্তি অনুযায়ী, যে সমস্ত দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের পাইলটদের তেল আভিভগামী ফ্লাইট ওড়ানোর ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও হামাম-আল হাম্মামি কীভাবে ফ্লাইদুবাইয়ের মতো সংস্থার তেল আভিভগামী বিমানের কো-পাইলটের সিটে বসলেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে অভিযুক্ত পাইলট ইসলামিক র‌্যাডিক্যাল মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

মাঝআকাশে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা

৩০ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ উড়ানে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর চওড়াও হন হাম্মামি। চিকিৎসকদের মতে, ক্যাপ্টেনের হাত প্রায় দুটুকরো হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং মাথা ছিল ক্ষতবিক্ষত। কিন্তু চরম শারীরিক যন্ত্রণা ও রক্তস্নাত অবস্থাতেও শেষ মুহূর্তে সাহসিকতার পরিচয় দেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে ফেলায় ভেতরে থাকা যাত্রীরা ও অফ-ডিউটি পাইলটরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। অন্যথায়, ৯/১১-এর মতো এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারত বলেই অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।