মিঠি নদী দুর্নীতি মামলায় কি সত্যি গ্রেফতার হয়েছেন বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়া? জল্পনার অবসান

মিঠি নদী কেলেঙ্কারি মামলায় বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার গ্রেফতারি নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে বিনোদন জগতে এক প্রকার শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, মুম্বই পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আসল ঘটনা হলো, গত শুক্রবার ২ অক্টোবর মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর অফিসে ডিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে টানা প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে জেরার মুখে পড়েন অভিনেতা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান। অভিনেতার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। মুম্বই পুলিশের EOW-এর যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাজেশ প্রধান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে ও তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন পড়লে তাঁকে আবারও তলব করা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের মিঠি নদী পরিষ্কার ও পলি তোলার বিশাল এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল বৃহন্মুম্বই পৌরসভা (BMC)। এই প্রকল্পে কাদা ও পলি পরিষ্কারের জন্য বিশেষ মেশিন ব্যবহারের চুক্তি দেওয়া হলেও, কিছু বেসরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তা যোগসাজস করে ভুয়ো ও অতিরিক্ত বিল তৈরি করে পৌরসভার আনুমানিক ৬৫.৫৪ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর কারণ হিসেবে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন যে, মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত কেতন কদম এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে ডিনো মোরিয়া ও তাঁর ভাই সান্টিনো রকো মোরিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এমনকি ডিনো, তাঁর ভাই এবং ধৃত কেতন কদমের স্ত্রী পুনীতা কদম একটি নির্দিষ্ট সংস্থায় পরিচালক পদেও যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে কেতন কদমের সংস্থা কীভাবে এই চুক্তি পেল এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না। সব মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব চললেও অভিনেতার গ্রেপ্তারের খবরটি যে নেহাতই গুজব, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।