“বিয়ে করলে স্ত্রী চাকরি করতে পারবে না!”-ওমানি কো-পাইলটের ডায়েরি থেকে কোন ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস?

ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073)-এর ককপিটে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামির অতীত নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে অভিযুক্তের মুছে ফেলা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর পুরনো একাধিক পোস্ট। যেখানে মহিলাদের অধিকার, কর্মক্ষেত্র এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে তাঁর চরম বিতর্কিত মানসিকতার পরিচয় মিলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আল-কায়দা যোগ ও রহস্যজনক পোস্ট
তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ ও ২০২২ সালের মধ্যে হাম্মামির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩ হাজার পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছিল। আল আরাবিয়া ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে আল-কায়দা জঙ্গি নেতা ও ৯/১১ হামলার অন্যতম চক্রী আয়মান আল-জ়াওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে যুক্ত হুমাম খালি আবু-মুলাল আল বালাউইয়ের ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। এমনকী, ৩০ সেপ্টেম্বরের হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেও তাঁর লিংকডইন (LinkedIn) অ্যাকাউন্ট থেকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ককপিটের ভিডিয়ো সহ বেশ কিছু পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটির শেষে আল-কায়দা নেতার ছবিও দেখা গেছে। এছাড়া মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমকে নিয়ে তৈরি একটি এআই (AI) ছবি এবং উগ্রপন্থী ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখার অভ্যাসের প্রমাণও মিলেছে।
নারীদের চাকরি ও রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে হাম্মামির ব্যক্তিগত জীবন ও নারীদের নিয়ে তাঁর কট্টর মানসিকতাও। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি পোস্টে তিনি পাত্রী খোঁজার প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেছিলেন, তাঁর হবু স্ত্রী যেন নিকাব পরেন এবং বিয়ের পরে চাকরি না করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বহু পরিবার নাকি প্রথমে রাজি না হলেও তাঁর ‘পাইলট’ পরিচয় জানার পরেই মত বদল করেছিল। এ ছাড়াও, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের আরেকটি পোস্টে পুরুষ ও নারীর একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছিলেন যে, কর্মক্ষেত্রে গিয়ে বহু ধর্মপ্রাণ নারী ‘নষ্ট’ বা প্রভাবিত হয়ে পড়ছেন।
ওমান এয়ার থেকে বহিষ্কার এবং নেপথ্যের প্রশ্ন
সোশ্যাল মিডিয়ার এই কদর্য ছবি সামনে আসার পাশাপাশি তাঁর আগের কর্মজীবন নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ (ABC News)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে দীর্ঘ সাত বছর ওমান এয়ার-এ কাজ করার সময় ২০২৪ সালে তাঁর কাছে চরমপন্থী মতাদর্শের কিছু উপকরণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়ই ইসলামিক উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণে ওমান সরকার তাঁকে বিমান ওড়ানো থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ডেস্ক জব দিয়ে সরিয়ে দেয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, উগ্রপন্থী হিসেবে চিহ্নিত এবং ওমানে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ফ্লাইদুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কো-পাইলটের চাকরি পেলেন? বিশেষ করে, আব্রাহাম চুক্তি অনুযায়ী ইজরায়েলের সঙ্গে ওমানের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কী করে তিনি তেল আভিভগামী ফ্লাইটের ককপিটে পৌঁছলেন, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।