“মাকে বাঁচাতে পারিনি…”-SMS হাসপাতাল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ রোগীর পরিবারের

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের সওয়াই মান সিং (SMS) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ জন। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতরা প্রত্যেকেই ট্রমা সেন্টারের দ্বিতীয় তলের আইসিইউ (ICU)-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লাগে।

তবে এই গণমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন নিহতদের ক্ষুব্ধ আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, আগুন ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার আগে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তাঁরা কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু কর্মীরা তাতে কর্ণপাত করেননি। উল্টে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তাঁরা রোগীদের কোনও সাহায্য না করেই পালিয়ে যান।

‘ধোঁয়া ছড়াতেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল’
নিহত এক রোগীর ছেলে নরেন্দ্র সিং সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ICU-তে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। তিনি যখন রাতের খাবার খেতে নীচে নামেন, তখনো আগুন লাগার খবর তিনি পাননি। তাঁর অভিযোগ, আগুন লাগার পর রোগীর আত্মীয়রা নিজেরাই প্রিয়জনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “কোনও কর্মী রোগীদের দায়িত্ব নেননি। আমার মা ঘরে একাই পড়েছিলেন। ধোঁয়া আরও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ভিতরেই আটকে পড়েন আমার মা।”

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি তাঁর মামার ছেলেকে এই ঘটনায় হারিয়েছেন, তিনি বলেন, “রাত সওয়া ১১টার পরে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আমি ডাক্তারদের আগেই সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু ওঁরা কোনও সাহায্য করেনি। মাত্র চার থেকে পাঁচজন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ধোঁয়া তীব্র হওয়ার আগেই ডাক্তার এবং কম্পাউন্ডাররা পালিয়ে গিয়েছিলেন।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং ট্রমা সেন্টারের কর্মীরা ট্রলি ও স্ট্রেচারে করে রোগীদের দ্রুত বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

চিকিৎসক অনুরাগ ধাকড় জানান, “ওই মুহূর্তে যতজনকে পারি, বাইরে বের করে নিয়ে আসি। কিন্তু ৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। চিকিৎসক ও নার্সরা সিপিআর দিয়ে তাঁদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।”

তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা ‘পলায়ন’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতার’ অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।