মাকে ফিরে পেতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঁচ বছরের শিশুর খোলা চিঠি, ‘দিদুন’ সম্বোধনে কাতর আবেদন

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদুন’ সম্বোধন করে এক হৃদয়বিদারক চিঠি লিখেছে পাঁচ বছরের এক শিশু। মায়ের বাড়ি ফেরার আকুল আর্তি জানিয়ে তার খোলা চিঠি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জানা গেছে, ওই শিশুর মা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি পেয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে উত্তর দিনাজপুরে কর্মরত।

কেন এই চিঠি?

২০২১ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হাজার হাজার শিক্ষকের পোস্টিং হয়েছে নিজেদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে। আসানসোলের বাসিন্দা স্বাগতা পাইনও সেই তালিকায় আছেন, যিনি বর্তমানে উত্তর দিনাজপুরের রহতপুর এফপি স্কুলের শিক্ষিকা। কাজের সূত্রে সন্তানের থেকে দূরে থাকতে হয় বলে তাঁর ছোট্ট ছেলে ঐতিহ্য দাশ মাকে কাছে পেতে এই অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। সে পেন্সিল দিয়ে খাতায় লিখেছে তার মনের কথা।

চিঠিতে কী লিখল ঐতিহ্য?
ঐতিহ্যের সরল ভাষায় লেখা চিঠিতে তার মনের কষ্ট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘প্রিয় মমতা দিদুন’ সম্বোধন করে সে লিখেছে:

“আমার নাম ঐতিহ্য দাশ। বয়স পাঁচ। আমার বাড়ি আসানসোলে। আমার মা উত্তর দিনাজপুরের প্রাইমরি দিদিমণি। তাই আমাদের ছেড়ে ওখানে থাকে। অনেকদিন পরপর বাড়ি আসে। আমি, বাবা আর দাদুর সঙ্গে বাড়িতে থাকি। আমার খুব কষ্ট হয় মাকে ছাড়া থাকতে। আমি মাকে খুব ভালোবাসি। তুমি তাড়াতাড়ি মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। আর যেন আমাকে ছেড়ে না-যায়।”

চিঠির শেষে ছোট্ট ঐতিহ্য নিজের নাম ও বয়স উল্লেখ করে বলেছে, “ইতি তোমার আদরের ঐতিহ্য।”

শিক্ষিকা মায়ের আক্ষেপ
ঐতিহ্যের মা স্বাগতা পাইন জানান, তার ছেলে বাবার সঙ্গে আসানসোলে থাকে এবং তার শ্বশুরমশাই বয়স্ক ও অসুস্থ। ছেলেকে একা রেখে কাজ করতে গিয়ে তার কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, এই সমস্যা শুধু তাঁর নয়, হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্বাগতা পাইন বলেন, “আমি বদলির জন্য অনেক দফতরে চিঠি দিয়েছি। হয়তো আমাকেই দেখে আমার ছেলে এটা লিখেছে। ওর ধারণা, একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই এর সমাধান করতে পারেন।”

ছোট্ট ঐতিহ্যের মুখে শোনা গেল তার এই আবেদনের কারণ। সে জানায়, “মা বলেছিল একমাত্র মমতা দিদুনই পারেন তাকে কাছে নিয়ে আসতে, তাই আমি চিঠি লিখেছি।” সে আরও যোগ করে, “মা কাছে চলে এলে আমি আবার মমতা দিদুনকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখব।”