মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক পদক্ষেপ! লোকসভার স্পিকারের দরবারে কৃষ্ণনগরের সাংসদ

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের রাতে পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠার পাশাপাশি সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সংসদীয় দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের এই সাংসদ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগের রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে মহুয়া মৈত্রকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁকে জোরপূর্বক সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আচরণকে তাঁর সংসদীয় অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তিনি। স্পিকারের কাছে পাঠানো নোটিসে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এই পুরো পরিস্থিতির নেপথ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে নদিয়ার জেলাশাসকসহ মোট তিনজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আর্জি জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের আচরণ কেবল আইনের শাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং দেশের সংসদীয় কাঠামোর পরিপন্থী। লোকসভার স্পিকারের কাছে দেওয়া এই নোটিসের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এখন দেখার বিষয়, স্পিকার মহোদয় এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী বার্তা দেয়।